ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬,১০ বৈশাখ ১৪৩৩

ভারত থেকে দেশে ঢুকছে ২ লাখ কোটি টাকার জাল নোট!

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে বিপুল পরিমাণ জাল নোট দেশে ঢোকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের।

বুধবার (০১ অক্টোবর) সামাজিকমাধ্যমে দেয়া পোস্টে তিনি দাবি করেন, পার্শ্ববর্তী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বাংলাদেশে বিভিন্ন রুটে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট প্রবেশ করানো হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এই জাল নোটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে, তা খালি চোখে চেনা কঠিন। এমনকি দেশের ব্যাংকগুলোতে ব্যবহৃত অটোমেটেড যাচাই মেশিনেও এসব নোট শনাক্ত করা যাচ্ছে না।

জাল নোটগুলো তৈরির ক্ষেত্রে মূলত বাংলাদেশের আসল মুদ্রার মতো একই ধরনের কাগজ, নিরাপত্তা সুতার প্রলেপ, এবং হুবহু মিল থাকা হলোগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। এসব নোট দেখতে একেবারেই আসল টাকার মতো।

জুলকারনাইন সায়ের আরও দাবি করেন, এসব নোট ছাপানো হয়েছে ভারতের অভ্যন্তরে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা-নিয়ন্ত্রিত মুদ্রা ছাপাখানায়, যেখানে মূলত দেশটির নিজস্ব মুদ্রাও ছাপানো হয়। সেখান থেকে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও গোপন পন্থায় জাল নোটগুলো সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সায়ের তার পোস্টে কিছু ছবি ও স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। ওই স্ক্রিনশটগুলোর মধ্যে একটিতে দেখা যায় হিন্দি ভাষায় (উৎস অনুযায়ী) লিখা আছে- ভাই, আপনি কি মাল নিতে যাচ্ছেন? যদি নিতে চান তাহলে দ্রুত জানান। আগামীকাল আমার কাছে আরও দুটি পার্সেল থাকবে। আমি সেগুলোর সঙ্গে আপনার পার্সেলগুলো দিয়ে দেব। যদি নিতে চান, তাহলে দয়া করে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা দিয়ে অর্ডার কনফার্ম করুন।

স্ক্রিনশটে হিন্দি ভাষায় আরও লিখা ছিল, ‘আমি আপনাকে একটি নাম্বার দিচ্ছি। এই নাম্বারে বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা দিয়ে অর্ডার কনফার্ম করুন এবং আপনার নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার পাঠান। মাল দুদিনের মধ্যে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।’

তার দাবি অনুযায়ী, এসব নোট অত্যন্ত কম মূল্যে বাংলাদেশি জাল নোট চক্রের হাতে তুলে দেয়া হচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য হলো- দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা, ভেতর থেকে অর্থনীতিকে ধ্বংস করা, এবং সন্ত্রাস ও নাশকতায় অর্থায়ন করা।

তিনি বলেন, বিষয়টি বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং নিরাপত্তা ইউনিটগুলো জানে এবং প্রতিরোধে তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে চ্যালেঞ্জ অনেক বড়, তাই এ মুহূর্তে জনসচেতনতা তৈরির দিকেও জোর দেয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

পোস্টের একপর্যায়ে জুলকারনাইন সতর্ক করে বলেন, যদি এই নোটগুলো বাজারে চলাচল শুরু করে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে। এমনকি সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থও বিপন্ন হতে পারে।

সূত্র: জুলকারনাইন সায়ের।