ঢাকা | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬,১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ফেব্রুয়ারিতেই ভোট, কঠোর অবস্থানে নির্বাচন কমিশন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতেই ভোট হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। সিইসি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোর প্রস্তুতি চলছে। প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন পুরোদমে কাজ শুরু করেছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (আরপিএটিসি) হল রুমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজশাহী অঞ্চলের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে সিইসি দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন হবে কি হবে না, এ নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের ভেতর আমরা যেতে চাই না। আমরা প্রধান উপদেষ্টার কথা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে চাই।”

ভোটের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। সিইসি বলেন, “যারা বাক্স দখল করে জেতার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের স্বপ্ন ব্যর্থ হবে। ভোটকেন্দ্র দখলের ইতিহাস ভুলে যান। আমরা কঠোর অবস্থানে থাকব। কোনো কেন্দ্রে ভোটকেন্দ্র দখল করলে পুরো ভোট বাতিল করা হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যারা অস্ত্র ব্যবহার করে ভোটে জিততে চাইবেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ।”

নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে সিইসি জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটা চলছে। সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে এবং আগামী রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নির্বাচনী সীমানার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সিইসি জানান, স্ট্রাইকিং ফোর্স নয়, বরং সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনে যারা স্বেচ্ছায় অনিয়ম করেছিলেন, সেসব নির্বাচন কর্মকর্তাদের এবারের দায়িত্বে রাখা হবে না। নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রায় ৫৭০০ কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে সিইসি জানান, জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপার, যারা এর আগে এ ধরনের কাজে যুক্ত ছিলেন, তাদের পদায়নের কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে ভোটের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

রাজনৈতিক চাপ প্রসঙ্গে সিইসি স্পষ্ট করে বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচন নিয়ে তাকে কোনো চাপ দেয়নি। তিনি আরও বলেন, “আমাকে চাপ দিলে আমি পদত্যাগ করব, চেয়ারে থাকব না।”

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি (পিআর) প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, এটি সংবিধানে নেই। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক থাকলেও, আইন পরিবর্তন না হলে নির্বাচন কমিশন এর বাইরে যেতে পারে না বলে তিনি জানান। সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চায় না এবং কোনো রাজনৈতিক দলের দ্বারা প্রভাবিত নয়। সংসদ নির্বাচন সঠিক করতে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন।