ঢাকা | শুক্রবার, ১ মে ২০২৬,১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

‘আজকেই তোর শেষ দিন’ বলে শিক্ষকের ওপর ছাত্রীর ছুরি নিয়ে হামলা

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মারুফ কারখীর ওপর এক সাবেক ছাত্রীর ছুরিকাঘাতের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কলেজের সামনেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আজ দুপুর বেলা ক্লাস শেষে শিক্ষক মারুফ কলেজ থেকে বের হচ্ছিলেন। কলেজের প্রধান ফটকের কাছেই এক ১৬ বছর বয়সী ছাত্রী হঠাৎ তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। শিক্ষকের গলা ও হাতে বেশ কয়েকটি আঘাত লাগে। শিক্ষককে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়, যেখানে তার গলায় তিনটি এবং হাতে পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। হামলার পর পরই স্থানীয় লোকজন মেয়েটিকে ধরে ফেলে। পরে তার পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

আহত শিক্ষক মারুফ কারখী জানান, তিনি মেয়েটিকে চিনতেন না। তিনি যখন দেখেন মেয়েটি ‘হেল্প, হেল্প’ বলে চিৎকার করছে, তখন তিনি তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যান। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। শিক্ষক বলেন, মেয়েটি হামলার সময় অশালীন ভাষায় গালাগাল করছিল এবং বলছিল, “ক্যান্ট স্কুলের যাকে পাব, তাকেই মারব।

পুলিশ ও স্কুল কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা যায় যে, এই হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ কাজ করছে। ছাত্রীটি ওই স্কুলেই পড়ত। সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালীন সে একজন শিক্ষকের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলেছিল এবং সেই আইডি থেকে সহপাঠীদের কাছে অশ্লীল ছবি পাঠাত। বিষয়টি জানাজানি হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তার বাবা-মাকে জানায়। তখন বয়স কম হওয়ায় কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পরও সে একই কাজ করতে থাকলে ২০২৩ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বর্তমানে সে বিজিবি পরিচালিত শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার পর পরই এলাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।