ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫,১ পৌষ ১৪৩২

পুতুলকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

সায়মা ওয়াজেদকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক দপ্তর (এসইএআরও)। শুক্রবার, ১১ জুলাই থেকে তাঁর ছুটি কার্যকর হয়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে।

সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস সংক্ষিপ্ত একটি অভ্যন্তরীণ ই-মেইলের মাধ্যমে ছুটির বিষয়টি জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সায়মা ওয়াজেদের অনুপস্থিতিতে সহকারী মহাপরিচালক ক্যাথারিনা বেম ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বেম ১৫ জুলাই ভারতের নয়াদিল্লিতে এসইএআরও কার্যালয়ে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন তেদরোস।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, তারা সায়মার ছুটিতে যাওয়ার খবর শুনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ বা নির্দেশনা পাননি।

জাতিসংঘের দিল্লিভিত্তিক একটি সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে সায়মা ওয়াজেদকে চার মাসের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, চলতি বছরের মে মাসে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলির সময় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ডব্লিউএইচও প্রধানের সঙ্গে সায়মা ওয়াজেদ প্রসঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাঁর বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অস্বস্তির কথা জানান।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ডব্লিউএইচও-র দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় আঞ্চলিক দপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন সায়মা। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তাঁর নিয়োগ ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ‘হেলথ পলিসি ওয়াচ’ এমন তথ্য প্রকাশ করে যে, নিয়োগের আগে থেকেই সায়মার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পদলাভের পদ্ধতি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুদক।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদ নিজের প্রোফাইল তৈরি করার সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এ অভিযোগের আওতায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার (প্রতারণামূলক জালিয়াতি ও জাল দলিল ব্যবহার) লঙ্ঘন উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অনারারি পদে থাকার দাবি করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে। এই দাবি তিনি ডব্লিউএইচওতে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন দুদকের উপপরিচালক আখতারুল ইসলাম।

এ ছাড়া আরেকটি মামলায় বলা হয়েছে, সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে তিনি তাঁর প্রভাব ব্যবহার করে অন্তত ২০টি ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির জন্য প্রায় ২.৮ মিলিয়ন ডলার (৩৩ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার হয়েছে, তা মামলায় স্পষ্ট করা হয়নি।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সায়মার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা (প্রতারণা ও অসৎ উদ্দেশ্যে সম্পদ গ্রহণ) এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা হয়েছে।

এসব ঘটনার পর থেকে সায়মা ওয়াজেদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি হিসেবে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। বাংলাদেশের আদালত ইতোমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

তাঁর নিয়োগ শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সায়মার মা শেখ হাসিনা, যিনি ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছেড়ে ভারতে যান, তিনি এই পদে নিয়োগের জন্য প্রভাব খাটিয়েছেন।