বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে দীপকে নিয়ে যায় পিবিআই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন অতিরিক্ত কমিশনার জানান, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু জানা নেই।
এর আগে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে ক্যাম্পাসের ছোট ভাই দ্বীপের মোটরসাইকেল এসে থামে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের করবীর পার্কিং গ্রাউন্ডে। এর দুই মিনিটের মাথায় সেখানে আসেন তাহসিফ। নিজের বাইকের চাবি তার হাতে দেন দ্বীপ।
তবে বাইক স্টার্ট না নেয়ায় পার্কিংয়ে কাটে প্রায় ১৩ মিনিট। শেষে ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে আলাদা দুই বাইকে বাসা থেকে বের হয়ে যান তাহসিফ ও দ্বীপ। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
সবশেষ ওই দিন রাত ১টা ৪৫ মিনিটে মাকে জানিয়েছিলেন বাসায় ফিরছেন তিনি। তবে ২৮ অক্টোবর উত্তরখানের তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। পরে তা ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়া হয় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। উদ্ধার হয় তাহসিফের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন।
সবশেষ তার সঙ্গে থাকা দ্বীপের দাবি, মোটরসাইকেল ঠিক করতে গ্যারেজে গিয়েছিলেন তারা। খাওয়া-দাওয়া করেছেন রেস্টুরেন্টে।
ঘটনার বিষয়ে তাহসিফ সাউরির বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ জানান, ‘আমরা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলাম। সেখানে বাইকটি মেরামত করানোর পর একটি রেস্তোরাঁয় যাই এবং একসঙ্গে রাতের খাবার খাই। খাবার শেষে আমরা বের হই। এরপর ভাই তার কোনো একটি কাজে চলে যান এবং আমি নিজের বাড়িতে ফিরে আসি।’
পুলিশের সুরতহাল রিপোর্টে তাহসিফের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ জানান, ‘পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের তদন্ত চলছে। মামলা দায়ের করা হলে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনও তদন্ত চলমান রয়েছে।’
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর হয় পরিবারের কাছে। স্বজনদের অভিযোগ—তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যু কীভাবে হলো? নিখোঁজ হওয়ার আগে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, তাও জানতে চায় পরিবার।
তবে নিহত তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল বলেন, ‘সে দেশের একজন সম্পদ। একজন পাইলট তো দেশেরই সম্পদ। তাই সরকার তদন্ত করলে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারবে। কারা, কোন চক্র এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে। তবে এ বিষয়ে আমার এখনও কিছু জানা নেই।’
পরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৪টা নাগাদ তার মরদেহ আনা হয় উত্তরার বাসায়। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) বাদ আসর জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের একটি কবরস্থানে দাফন করা হয় বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তাকে।




