জবি প্রতিনিধি:
রাজধানীর বংশালের চানখারপুলের কায়েতটুলি এলাকার একটি মেসের কক্ষ থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম অনিক চন্দ্র পাল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৫-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেসের কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়।
অনিকের মেসসঙ্গী ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, সোমবার থেকে অনিকের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাতে অনিকের এক সহপাঠী ফোনে তাকে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার অনুরোধ করেন। এরপর জয় ও ওই সহপাঠী অনিকের কক্ষের সামনে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাননি।
জয় ভূঁইয়ার ভাষ্য, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তারা সন্দেহ করেন। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকালে অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সহপাঠী ও মেসের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল বলে তারা জানান। এরপর থেকে তিনি অনেকটা নীরব ও একাকী হয়ে পড়েছিলেন বলে তাদের ভাষ্য। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় বলে জানান তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে ঢামেক হাসপাতালে যান জবি ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল।
তিনি বলেন, “স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না।”
অনিকের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের বিষয়টি সামনে এলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।






