ঢাকা | শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

হাতিকে শর্তসাপেক্ষ জামিন দিল ভারতের আদালত

হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ভারতের ভারতের মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর রাজ্যের অটোচালক বিজয় হোলকার। পরবর্তীতে হত্যার কারণে হাতিটিকে কারাগারে পাঠানো হয়। অবশেষে শর্ত সাপেক্ষে হাতিটিকে জামিন দিয়েছে ভারতের আদালত।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, অটোচালক বিজয় হোলকারের মৃত্যুর পর ঘাতক হাতিটিকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা ও দায়রা আদালতের আদেশ অনুযায়ী, হাতিটিকে আপাতত শহরেই নজরবন্দি করে রাখা হয়।

তবে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গজরাজকে ইনদওর ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। আদালত হাতিটির বিষয়ে বেশ কিছু শর্তও আরোপ করেছে। এটিকে শহর জুড়ে ঘোরানো, ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা কোনও জনসমাবেশে উপস্থিত থাকার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যে কোনও অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে বন বিভাগ এর গতিবিধির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখবে।

এই মামলায় হাতিটির মাহুত (হাতির চালক) উমেশ গোস্বামী এবং মালিক সন্দীপ নির্মোহীর জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠানো হয়েছে। এই মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে খবর। বন বিভাগ শুধু ঘটনার পরিস্থিতিই নয়, হাতিটির মালিকানা সম্পর্কিত নথিপত্রও খতিয়ে দেখছে। হাতিটিকে নিয়ম মেনে পরিবহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করতে স্থানান্তকরণের নথি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত চলাকালীন উঠে এসেছে, হায়দরাবাদ থেকে ফেরার পথে নান্দেদের কাছে হাতিটির আচরণে পরিবর্তন লক্ষ করা গিয়েছিল। যে ট্রাকে করে আনা হচ্ছিল, সেটির টায়ার ফুটো হয়ে যায়। এর পর হাতিটি ট্রাকে উঠতে অস্বীকার করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শুরু করে। হাতিটি ট্রাকে উঠতে রাজি না হওয়ায় প্রায় ১৫ দিন ধরে হাঁটিয়ে সেটিকে উজ্জৈনে আনা হয়েছিল। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে এই দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা হাতিটির আচরণে প্রভাব ফেলেছিল এবং সে আগের চেয়ে বেশি খিটখিটে হয়ে উঠেছিল।

গত মাসের ২৫ তারিখে হাতিটিকে তার মাহুত রাস্তায় ঘোরাতে নিয়ে বেরোয়। হাতিটিকে গুড় খাওয়াতে গিয়েছিলেন ৪৯ বছরের বিজয়। হঠাৎ হাতিটি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিজয়কে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে ধরে। সজোরে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিজয়কে ছুড়ে ফেলার পর হাতিটি তাঁর বুকের উপর পা তুলে দেয়। গুরুতর আহত হন প্রৌঢ়। আশপাশে থাকা লোকজন তাকে হাতির কবল থেকে মুক্ত করে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিজয়ের পরিবার তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা