পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সংবাদ প্রকাশের জেরে মোয়াজ্জেম হোসেন (৪০) নামে এক সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী। শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের মাছ বাজার সংলগ্ন সদর রোড এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত মোয়াজ্জেম হোসেন নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এবং জাতীয় দৈনিক ‘আজকের পত্রিকা’র কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যায় যন্ত্রণাকাতর শরীরে সাংবাদিক মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে শহরের একটি মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে বসেছিলেন তিনি। এ সময় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম এবং মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লালের নেতৃত্বে ৭ থেকে ৮ জন ছাত্রদল নেতাকর্মী তার ওপর ২ দফায় অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
হামলার কারণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত ২১ জুন শহরের স্লুইস গেট এলাকায় তার বোনের বসতবাড়িতে একটি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রদলের এই নেতাকর্মীরা তার ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্ত কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল তার জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, ‘আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না। বরিশালে আমার এলএলবি পরীক্ষা ছিল। সকাল ৬টার গাড়িতে গিয়েছিলাম এবং পরীক্ষা শেষে রাত ৮টার গাড়িতে কলাপাড়া ফিরেছি। আসার পর ঘটনাটি শুনেছি। এই ব্যাপারে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে বুঝতে পারছি না।’
সাংবাদিকের ওপর হামলার এই ঘটনায় পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেলা ছাত্রদল এই ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন নিষ্ঠাবান সাংবাদিকের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বেল্লালকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছি।’
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে জেনেছেন এবং ঘটনার নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সাংবাদিকের ওপর হামলায় জড়িত অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। একজন সংবাদকর্মীর ওপর হামলার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।





