ঢাকা | মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া বৈঠকে স্বাক্ষর হলো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। পরে তাঁরা একান্ত বৈঠক করেন। এরপর দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর উভয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংস্কৃতিবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতাসংক্রান্ত একটি দলিল এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দলিল দুটি বিনিময় করেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি লা হোটেল থেকে মোটর শোভাযাত্রাসহ পুত্রজায়ার উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমান। সকাল ৯টায় তাঁরা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পেরদানা পুত্রা ভবনে পৌঁছালে তাঁদের স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তাঁর সহধর্মিণী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।

এ সময় লালগালিচায় তারেক রহমান ও জুবাইদা রহমানকে মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গার্ড পরিদর্শন করেন।

পরে উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের সঙ্গে একে অপরকে পরিচয় করিয়ে দেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পেরদানা পুত্রা ভবনের পঞ্চম তলায় দুই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শুরু হয়, যেখানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।

মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত নারীর লাশ, পাশেই পড়ে ছিল লাল শাড়িমহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত নারীর লাশ, পাশেই পড়ে ছিল লাল শাড়ি
বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়। আলোচনায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করা, বিভিন্ন কারণে অবৈধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিতকরণ ও ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন, বাংলাদেশের আম, ফলমূল ও শাকসবজির জন্য মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার জন্য বাংলাদেশের আবেদন, রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আল সিয়ামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অভিমুখী সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে রোববার স্থানীয় সময় রাত পৌনে নয়টায় কুয়ালালামপুরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এ সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।