ঢাকা | রবিবার, ৭ জুন ২০২৬,২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পৈতৃক জমি দখল ও গাছ কাটার অভিযোগ, অপপ্রচারের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীদের বিক্ষোভ

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার বিপ্র বেলঘড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ার কাজিপুর (ত্রিমোহনী) এলাকায় শরিকদের পৈতৃক জমি জবরদখল, রোপিত গাছ কেটে ফেলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি দখলসহ নানাভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৪ সালের ২৮ জানুয়ারি সম্পাদিত ১২৫৭ নম্বর দলিল মূলে নাটোর জেলার তেলকুপি গ্রামের মৃত ইব্রাহিম খানের ছেলেরা ১১২ শতাংশ জমি প্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন। এর মধ্যে শ্যামপুর মৌজার ৭৪ ও ৭৫ নম্বর খতিয়ানের ৩২, ৩৮ ও ৩৯ দাগে মোট ৯২ শতাংশ এবং বিপ্র বেলঘড়িয়া মৌজার ৫৫৮৮ হাল দাগের (খতিয়ান নং ২৮৩) ২০ শতাংশ জমি রয়েছে। উক্ত সম্পত্তির মূল গ্রহীতাদের একজন বোরহান উদ্দিন খানের মৃত্যুর পর তার তিন ছেলে আইয়ুব খান, মোনায়েম খান ও খাদেমুল ইসলাম খান এবং স্ত্রী ছবিরণ বেওয়া নিজ নিজ অংশ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬-৯৭ সালের দিকে মোনায়েমের বড় ভাই আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব খান এই সম্পত্তির দক্ষিণাংশে জোরপূর্বক বাড়ি নির্মাণ করে জবরদখল করেন।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে এই জমি অবৈধ দখলে রাখার পর, সম্প্রতি মোনায়েম খান গং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও কিছু ভাড়াটিয়া লোকবলের সাহায্যে অপর অংশীদার মোরশেদ খানের ৫৫৮৮ দাগের দক্ষিণাংশের বাকি সম্পত্তিও জবরদখল করে পাকা বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা চালান। এতে দিয়ার কাজিপুরের সুমন নামে এক ব্যক্তি প্রত্যক্ষ মদদ দেন বলে অভিযোগ। এছাড়া অতি সম্প্রতি ঈদুল আজহার মাত্র এক সপ্তাহ আগে মোনায়েম খান, তার ভাই আইয়ুব খানের ছেলে পাপ্পু এবং আইয়ুব খানের মেয়ের জামাই কাউসারকে সাথে নিয়ে ছোট ভাই খাদেমুল ইসলামের অংশে রোপিত সুপারি ও লেবুর গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলেন।

ভুক্তভোগী খাদেমুল ইসলাম স্থানীয় ত্রিমোহনী বাজারে গিয়ে মাতবরদের বিষয়টি জানালে প্রতিপক্ষ মোনায়েম গং তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়। এই ঘটনার জেরে ছোট ভাই খাদেমুল ওই বিবাদমান বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলেও প্রতিপক্ষ তাদের জবরদখল বজায় রেখেছে।

এদিকে, মোরশেদের অংশের অবশিষ্ট ফাঁকা জায়গাটুকু দখলে নিতে সম্প্রতি প্রতিপক্ষ ইটের প্রাচীর (ওয়াল) তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তা প্রতিহত করেন। স্থানীয়ভাবে এই জবরদখলের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি চক্র ‘হ্যালো নাটোর’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে নানামুখী মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উক্ত অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এলাকায় এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মাকসুদ খান পলাশ, রবিউল আউয়াল, খাদেমুল ইসলাম, হাবিব খান, মিন্টু খান এবং আলম প্রমুখ।

সমাবেশে মৃত ময়েন উদ্দিন খানের ছেলে মাকসুদ খান পলাশ বলেন, “নালিশি দলিলের বোরহান খানের হিস্যা ১৬ শতাংশ জমি ৩৯ দাগে তার জীবদ্দশা থেকে অদ্যবধি তার সন্তানেরা শান্তিপূর্ণ দখলেই আছে। প্রতিপক্ষরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ২০১৩ সাল থেকে আমাদের অন্যান্য ৬-৭ বিঘা জমি জবরদখল করে রেখেছিল। এখন আবার নতুন করে কিছু হাইব্রিড নেতার সহযোগিতায় অন্যের জায়গা দখল করে বাড়ি নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ ফেসবুক আইডিতে মিথ্যাচার করে বলা হচ্ছে আমরা নাকি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছি এবং রাস্তায় বেড়া দিয়েছি; যার কোনো ভিত্তি নেই। এখানে বাড়িঘর ভাঙচুর কিংবা রাস্তায় বেড়া দেওয়ার মতো কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”

এদিকে জবরদখল ও গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোনায়েম খানের পরিবারের লোকজন। তারা দাবি করেন, জমি নিয়ে শরিকদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো কিংবা জোরপূর্বক গাছ কাটার বিষয়টি সঠিক নয়। পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন ও সীমানা নির্ধারণের আইনি জটিলতার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ভুক্তভোগী পরিবারটি পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষা ও জবরদখলকারীদের হয়রানি থেকে বাঁচতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।