ঢাকা | সোমবার, ১৮ মে ২০২৬,৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুমারী মেয়ের নীরবতাই সম্মতি, আফগান সরকারের নতুন আইন জারি

আফগানিস্তানে বিয়ে, তালাক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়ে নিয়ে নতুন পারিবারিক আইন জারি করেছে তালেবান সরকার। নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, কুমারী মেয়ের নীরবতা বিয়ের সম্মতি হিসেবে গণ্য হবে। আইনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

৩১ অনুচ্ছেদের এই অধ্যাদেশের নাম দেওয়া হয়েছে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদসংক্রান্ত নীতিমালা। তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার অনুমোদনের পর এটি আফগানিস্তানের সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়।

নির্বাসনে থাকা আফগান সাংবাদিকদের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আমু টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইনে বিয়ে, বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব ও বিয়ে বাতিলসংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিধানের একটি অংশে বলা হয়েছে, কোনো কুমারী মেয়ে বিয়ের প্রস্তাবে নীরব থাকলে সেটিকে সম্মতি হিসেবে ধরা হবে। তবে ছেলে বা আগে বিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে নীরবতাকে সম্মতি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

আইনটিতে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়েও বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাবা ও দাদাকে এ ধরনের বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

তালেবান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি পাত্র সামাজিকভাবে উপযুক্ত হয় এবং দেনমোহর ধর্মীয় মানদণ্ড পূরণ করে, তাহলে আত্মীয়দের মাধ্যমে ঠিক করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিয়েও বৈধ হবে।

এছাড়া বালেগ হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নামে একটি বিধান রাখা হয়েছে। এর আওতায় বয়ঃসন্ধিকালের আগে সম্পন্ন হওয়া বিয়ে, সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার আবেদনের ভিত্তিতে বাতিল করা যেতে পারে। তবে এজন্য ধর্মীয় আদালতের অনুমোদন লাগবে।

নতুন আইনে ব্যভিচার, ধর্মত্যাগ, স্বামীর দীর্ঘ অনুপস্থিতি ও জিহার সংক্রান্ত বিরোধেও তালেবান বিচারকদের হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ, কারাদণ্ড বা অন্যান্য শাস্তির নির্দেশ দিতে পারবেন বিচারকরা।

২০২১ সালের আগস্টে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই নারীদের ওপর ধারাবাহিক বিধিনিষেধ আরোপ করে আসছে তালেবান। ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের শিক্ষা বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের নিষিদ্ধ করা, চাকরি, ভ্রমণ ও জনজীবনে অংশগ্রহণে কঠোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগেই সমালোচনার মুখে পড়েছে গোষ্ঠীটি।

ইসলামি আইনে কী বলা আছে

ইসলামি ফিকহে বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর সম্মতি বাধ্যতামূলক। সহিহ হাদিসে এসেছে, কুমারী মেয়ের অনুমতি নিতে হবে এবং তার নীরবতাকে সম্মতির আলামত হিসেবে ধরা যেতে পারে; যদি সে লজ্জার কারণে সরাসরি কিছু না বলে। তবে জোরপূর্বক বিয়ে ইসলামি শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।

হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কুমারী মেয়ের অনুমতি নিতে হবে, আর তার নীরবতাই তার অনুমতি। একই সঙ্গে তিনি জোর করে বিয়ে দেওয়া নারীর বিয়ে বাতিল করার ঘটনাও অনুমোদন করেছিলেন।

ইসলামি আইনবিদদের মতে, এই বিধান প্রযোজ্য তখনই, যখন মেয়েটি স্বাভাবিক অবস্থায়, ভয় বা চাপ ছাড়াই নীরব থাকে এবং তার মতামত প্রকাশেরও সুযোগ থাকে।

সূত্র : এনডিটিভি