আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে নিজের শেষ ম্যাচটা কি খেলে ফেললেন মহেন্দ্র সিং ধোনি? ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে বুধবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে দারুণ লড়াই করেও ধোনি পারেননি দলকে জয়ের বন্দরে নিতে। চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমে দারুণ লড়াই করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রান আউট হয়ে ফিরতে হয় তাকে। কিউইদের কাছে হেরে ভারত ছিটকে যায় সেমিফাইনাল থেকে।

৩৮ বছর বয়সী ধোনি নিজের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটা যে খেলে ফেললেন সেটি একরকম নিশ্চিত। শেষ ওয়ানডে কিনা সেটি বলা যাচ্ছে না এখনই। তবে ধোনি যদি এখানেই থামেন, তবে তার শুরু আর শেষের মধ্যে কাকতালীয় একটা মিল থেকে যাবে। ওয়ানডে অভিষেকেও যে রান আউট হতে হয়েছিল ধোনিকে।

২০০৪ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক ওয়ানডেতে রানের খাতা খোলার আগেই রান আউট হন ধোনি। তাপস বৈশ্যর থ্রো থেকে উইকেট ভেঙে দেন খালেদ মাসুদ পাইলট। আর বৃহস্পতিবার ধোনিতে ভর করেন যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল ভারতীয়রা, ঠিক তখনই মার্টিন গাপটিল সরাসরি থ্রোতে ভেঙে দেন উইকেট। ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ভারত।

ম্যানচেস্টার ও চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপট পুরোপুরি ভিন্ন। তারপরও ধোনির বিদায় নিয়ে যখন চারদিকে আলোচনা, তখন এই মিলটাও এসে যাচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার যেমন এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে ২০০৪ সালের সেই স্মৃতি রোমন্থন করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক পাইলট।

ধোনিকে আউট করা প্রসঙ্গে পাইলট বলেন, ‘‘অনেক দিন আগের ঘটনা। ভুলে গিয়েছিলাম। ধোনি স্কয়ার লেগে বল ঠেলে রান নেওয়ার জন্য দৌড়েছিল। নন স্ট্রাইক প্রান্তে দাঁড়ানো মোহাম্মদ কাইফ ফিরিয়ে দেয় ধোনিকে। তত ক্ষণে অনেক দেরি করে ফেলেছে ধোনি। তাপস (তাপস বৈশ্য) আমাকে বল ছুড়ে দেয়। আমি বল হাতে পেয়েই উইকেট ভেঙে দিই। ধোনির আর ক্রিজে ফেরা হয়নি।’’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ভারতের লক্ষ্য ছিল ২৪০। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৪ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। ৯২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে হারের মুখে পড়ে যায়।

সেখান থেকে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন ধানি ও রবীন্দ্র জাদেজা। ধোনি স্ট্রাইক রোটেট করে খেলে গেছেন। জাদেজা ছিলেন মারমুখী। কিন্তু ব্যক্তিগত ৭৭ রানে জাদেজা ফিরে যান। এরপর ধোনিও ৫০ রান করে রানআউট।

ধোনি উইকেটে থাকলে নিশ্চিতভাবেই ম্যাচ বের করে নিতেন। ধোনির এই আউট নিয়ে খালেদ মাসুদ পাইলট আনন্দবাজারকে বলেন, ‘‘ধোনির জন্য খুব খারাপ লাগছিল। অল্পের জন্য ক্রিজে পৌঁছতে পারল না।’’

ধোনির ক্রিকেট মস্তিষ্কের প্রশংসা করে পাইলট বলেন, ‘‘বিশ্বক্রিকেটে যে ক’জন ক্রিকেটার মস্তিষ্ক দিয়ে খেলে, তার মধ্যে অন্যতম ধোনি। উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে গোটা ম্যাচটা দারুণ বিশ্লেষণ করে। আমার বিশ্বাস, কোন ব্যাটসম্যানকে কোন জায়গায় বল ফেলতে হবে, সেটা ধোনিই বোলারদের বলে দেয়। বোলার যখন বল করার জন্য দৌড়ন, তখন ক্যামেরা বোলারকেই ধরে। বাকিদের আমরা আর দেখতে পাই না। তাই ধোনি থেকে যায় অদৃশ্য। কিন্তু, ওই তো দলের আসল মস্তিষ্ক।’’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here