‘আমার বেশি স্বপ্ন নেই। একটাই স্বপ্ন, কোনো একদিন আম্মুকে বলবো—প্রথম মাসের বেতন হাতে পেয়েছি, এখন আর আমাদের কোনো সমস্যা নেই, আমি আছি। সেদিনই হবে আমার জীবনের চূড়ান্ত সফলতা।’—বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সাখওয়াত হোসেন রিমন।
ষষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ার সময় বাবাকে হারান রিমন। স্কুলজীবনে তাঁর এক ভাই শিক্ষক থাকায় পড়াশোনার খরচ কিছুটা সহজ হয়েছিল। বর্তমানে পরিবারের সদস্য মা, চার বোন ও দুই ভাই। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। নতুন জায়গায় এসে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ভর্তি পরীক্ষায় আইন বিভাগে ৩৯তম স্থান পেয়েছেন রিমন।
একই বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী নিশানুল ইসলামও নিজের গল্প শোনালেন। ছোটবেলা থেকেই আইনে পড়ার ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু প্রথমবার ভর্তি পরীক্ষায় বসা হয়নি, কারণ বাবা-মা দুজনেই অসুস্থ ছিলেন। হাল না ছেড়ে তিনি টিউশনি করে টাকা জমালেন, পরে একটি অনলাইন কোচিং সেন্টার থেকে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেন। দ্বিতীয় বারেই আইন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। তাঁর কথায়, “আমার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন কোনো একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হওয়া।”
অন্যদিকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী ইরিন জামান খান প্রান্তি ভর্তি হতে পেরে আনন্দিত। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমি অনেক খুশি যে এখানে পড়তে আসতে পেরেছি। আমার আম্মুর অনেক পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় এটা। আর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আমার আকাঙ্ক্ষার বিভাগ। ছোটবেলা থেকেই খবর উপস্থাপনার বিষয়টা আমার খুব ভালো লাগত, তাই এই বিষয়ে পড়ার প্রতি আলাদা টান আছে।”
রাবির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীনদের জীবনে যেমন আছে সংগ্রাম, তেমনি আছে আলোর দ্যুতি। কেউ পারিবারিক কষ্টের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছেন, কেউ নিজের পরিশ্রমে পথ খুঁজে নিচ্ছেন, আবার কেউ মায়ের স্বপ্ন পূরণের আনন্দে উচ্ছ্বসিত। তাঁদের সবার লক্ষ্য একটাই—শিক্ষার আলোয় নিজেকে গড়ে তোলা, পরিবার ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়া।






