ঢাকা | রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬,২৩ কার্তিক ১৪৩৩

পরীক্ষায় না দিয়েই মিলছে জিপিএ ফাইভ!

কখনো ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েও জিপিএ ফাইভ, আবার কখনো পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই মিলছে সর্বোচ্চ ফল। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবছরই এমন ফল জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসছে। একের পর এক অনিয়মের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে। শিক্ষাবিদদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং জবাবদিহিতার অভাবেই বারবার ঘটছে এ ধরনের জালিয়াতি।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা। প্রকাশিত ফলে এক শিক্ষার্থী জিপিএ ফাইভ পেলেও পুনঃনিরীক্ষণের সময় দেখা যায়, সে ১০টি বিষয়ে অকৃতকার্য। অভিযোগ রয়েছে, নম্বর জালিয়াতির মাধ্যমে তাকে পাস করানো হয়েছিল। এ ঘটনায় বোর্ডের তিন কম্পিউটার অপারেটরসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ।

তবে এ ধরনের ঘটনা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন পরীক্ষার ফল নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় ৩৪টি উত্তরপত্রের নম্বর জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই জিপিএ ফাইভ পায় ১৭ শিক্ষার্থী। আর ২০২৩ সালে তৎকালীন বোর্ড সচিব নারায়ণচন্দ্রনাথের ছেলের ১১টি বিষয়ে নম্বর জালিয়াতির ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনাও শেষ পর্যন্ত মামলায় গড়ায়।

একের পর এক এমন ঘটনায় বোর্ডের ফল প্রস্তুত ও প্রকাশের প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। একই সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক আব্দুল আলিম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব থাকায় এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস পাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। শুরুতে ছোট পরিসরে অনিয়ম হলেও ধীরে ধীরে তা বড় আকার ধারণ করেছে। একপর্যায়ে এসব ঘটনা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আনোয়ারা আলম বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা না গেলে শিক্ষার্থীদের ঘিরে তৈরি হওয়া নেতিবাচক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন হবে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

বোর্ডের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ফল জালিয়াতির ঘটনাগুলোর সঙ্গে কম্পিউটার শাখার স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। উত্তরপত্র স্ক্যানিংয়ের সময় কৌশলে নম্বর পরিবর্তনের মাধ্যমে ফলাফলে কারসাজি করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি শনাক্ত করার পর কম্পিউটার শাখার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পুরো কার্যক্রম ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, প্রাথমিকভাবে স্ক্যানিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জালিয়াতির ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে এবারের ঘটনায় আগের সেই পদ্ধতি পাওয়া যায়নি। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্ক্যানিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে। কম্পিউটার শাখার কার্যক্রম আরও নিরাপদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এসব সমস্যা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার শাখার জনবল কাঠামো নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। মাত্র দুইজন প্রোগ্রামার দিয়ে পরিচালিত হতো শাখাটির কার্যক্রম। পরীক্ষার সময় কাজের চাপ সামাল দিতে দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয় আরও আট থেকে ১০ জন কর্মী। এখন কম্পিউটার শাখার পুরো কার্যক্রম নতুন করে সাজানোর কথা বলছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

খবর চ্যানেল ২৪