ঢাকা | মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বিদ্যুৎহীন ভবনে ২২ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ চুয়েটের নতুন ভিসি

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম টানা ২২ ঘণ্টা ধরে নিজের কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় উপাচার্যসহ ভেতরে অবস্থানকারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ চলছে।

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন তারা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্তও তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তার সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

চিকিৎসক আবদুল্লাহ প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক রক্তচাপ ১৭০ এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

শারীরিক অবস্থার বিষয়ে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভবনের ভেতরে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় অন্যরাও অসুস্থ ও ক্লান্ত অনুভব করছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, রাত ২টার দিকে উপাচার্যের সঙ্গে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে প্রথমে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চট্টগ্রাম শহরে পাঠানো হয়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

ফলে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। উপাচার্যকে ঘিরে নতুন করে সৃষ্ট অচলাবটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।