ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্রান্সের পর এবার বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ফ্রান্সের রেশ ধরেই শিক্ষা খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে এবার বিক্ষোভে নেমেছেন বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীরাও। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আটক হন একশ’র বেশি শিক্ষার্থী। এদিকে, ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পুলিশকে দমনপীড়নের কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু। পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ফরাসি সরকার। আন্দোলনে একাত্মতা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাজপথে নেমেছেন সেন ডেনিস শহরের মেয়রও।

রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বেশিরভাগ শহরের রাস্তা এখন শিক্ষার্থীদের দখলে। শিক্ষাখাতে সংস্কারের দাবিতে চলমান বিক্ষোভ মাত্র ২ সপ্তাহের ব্যবধানে ছড়িয়েছে গোটা ফ্রান্সে। রাজপথে নেমেছে সাড়ে ৪ লাখের বেশি মানুষ।

বিক্ষোভকারীরা পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে বিশাল মিছিল নিয়ে প্যারিসের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে জড়ো হয়। স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেয় শিক্ষক, অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। মুহূর্তেই তা রূপ নেয় গণআন্দোলনে। তাদের দমাতে এক পর্যায়ে সহিংস হয়ে উঠে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করে পুলিশ। সংঘর্ষে আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন।

স্কুল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্যারিসের উপশহর সান দেনিসের বামপন্থি মেয়র বালি বাগায়োকো। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শিকার হয়ে আহত হন তিনি। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধীদলগুলো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ময়লার ডাস্টবিন দিয়ে রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশের শুরু হয় সংঘর্ষ। এদিকে, শিক্ষার্থীদের মিছিলের ঢল ঠেকাতে বিশাল ব্যারিকেড গড়ে তুলে পুলিশ। বিক্ষোভ দমাতে সরকার ভয়াবহ দমনপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘ভয়াবহ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে আন্দোলনে ধীরে ধীরে সবাই অংশ নিচ্ছে।’

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকোর্নু গভীর রাতে দেয়া এক ভাষণে দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের দমনে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে বলপ্রয়োগের নির্দেশনা দেয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনাও আশ্বাস দেন তিনি।

ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু বলেন, ‘স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। পুলিশের কাজ হলো সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাসহ দেশের মানুষকে সুরক্ষা দেয়া। পরিস্থিতি বুঝেই তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে সবার সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন। কেউ নির্যাতনের শিকার হলে তা তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

চলমান আন্দোলনে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে দেশটির ৯শ’র বেশি স্কুল। গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে। সম্প্রতি দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এক কিশোরের হাত উড়ে যাওয়ার ঘটনায় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ফরাসি সরকার।

এদিকে, প্রতিবেশী ফ্রান্সের রেশ ধরেই শিক্ষা খাতের নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীরা। ফ্রান্সের আন্দোলন থেকে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছে বলে জানান বেলজিয়ামের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী চাপ ও শিক্ষা উপকরণ সংকটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের এক পর্যায়ের তারা যানবাহন ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। আটক করা হয় একশ’র বেশি শিক্ষার্থীকে।