কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিজয়-২৪ হলের ২১৬ নম্বর কক্ষে এক দশক আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসাইন আবির ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি বিজয়-২৪ হলের ২১৬ নম্বর কক্ষে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই কক্ষে অবস্থানরত তিন শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে অন্য কক্ষে চলে গেলে তিনি একাই কক্ষটি ব্যবহার করছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া গভীর রাতে হলে প্রবেশ এবং পরবর্তী সময়ে দিনের বেলাতেও তাকে হলে অবস্থান করতে দেখা যাওয়ার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি হল প্রশাসনের নজরে আসার পর খোঁজ নেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার কথা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
শিবির নেতারা বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য নির্ধারিত। ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের কারণে হলে অবস্থান করলে তা আবাসিক সুবিধাপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। প্রশাসনের নজরে আসার পরও একজন সাবেক শিক্ষার্থী কীভাবে হলে অবস্থান করছেন এবং একটি কক্ষ ব্যবহার করছেন, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসিক অধিকার নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবিগুলোর হলো— ১. বিজয়-২৪ হলের ২১৬ নম্বর কক্ষের বর্তমান ও পূর্ববর্তী সিট বণ্টনের বিষয়টি যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী বৈধ শিক্ষার্থীর নামে সিট বরাদ্দ নিশ্চিত করা;
২. হলের আবাসন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করতে সুনির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা;
৩. বিদ্যমান নীতিমালার বাইরে অবস্থানরত সাবেক শিক্ষার্থী ও অননুমোদিত ব্যক্তিদের সিট বাতিল করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হলের অনিয়ম সম্পর্কে প্রশাসন অবহিত থাকার পরও ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্য ও অনাস্থা তৈরি হতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বা অন্য কোনো বিবেচনার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী হল পরিচালনার দাবি জানানো হয়।






