সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদানের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।
পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকেই জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হতে শুরু করেন তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষকেরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’-এ চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে তারা লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। সকাল ১১টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা রাজধানীতে এসেছেন। তাদের হাতে থাকা ব্যানারে লেখা রয়েছে, ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী যোগদান ও বিদ্যালয়ে পদায়নের দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি।’
এদিকে, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে নতুন অগ্রগতির কথাও জানিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবর মাসের ১ তারিখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষকের যোগদান শুরু হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে আজ রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগযোগ্য শূন্য পদে নির্বাচিত প্রার্থীদের যথাসময়ে নিয়োগপত্র প্রেরণ করা হবে। যোগদানের পর তাদের পদায়ন এবং পরবর্তীতে পেশাগত প্রশিক্ষণে পাঠানো হবে।
এর আগে, গতকাল শনিবার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি ভার্চ্যুয়াল সভায় প্রাথমিক শিক্ষক যোগদানের প্রাথমিক তারিখ ২৯ অক্টোবর কথা বলা হয়েছিল। সভার পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও অন্যান্য প্রক্রিয়াগত দীর্ঘসূত্রতার কারণে যোগদান বিলম্বিত হলেও দ্রুত সময়সীমার মধ্যেই শিক্ষক পদায়ন সম্পন্ন করতে চায় সরকার।
তবে আজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১ অক্টোবরই যোগদানের চূড়ান্ত তারিখ হিসেবে নিশ্চিত করা হলো।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করার পর তাদের পদায়ন সম্পন্ন করা হবে। পদায়ন প্রক্রিয়া শেষেই শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।
এর আগে, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত (এমসিকিউ) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করা হয়।
তবে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ সব প্রক্রিয়া শেষ হলেও নির্বাচিত প্রার্থীরা এখনো যোগদান করতে পারেননি। এ নিয়ে গত এপ্রিলের শেষ দিকে রাজধানীতে আন্দোলন করেন তারা। পরে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের যোগদান করানো হবে এবং পদায়নের পর পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।




