ঢাকা | শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ, কেন্দ্রসচিবসহ ৯ জন অব্যাহতি

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল করে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনা ঘটেছে। এই গাফিলতির দায়ে কেন্দ্রসচিব ও ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট ৯ জনকে পরীক্ষা পরিচালনার সকল দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রসচিব, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য এবং দুই কক্ষে দায়িত্বে থাকা চার শিক্ষকসহ মোট নয়জনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

অব্যাহতিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্রসচিব) আসাদুল হক এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও কেন্দ্রের ট্যাগ অফিসার মনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির তিন সদস্য ও দুই কক্ষে দায়িত্ব পালন করা চার শিক্ষক রয়েছেন।

ফুলছড়ি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুল হাসান বলেন, ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছেন মোট ৬১ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৫০ জন এবং ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১ জন।

তিনি জানান, গত ২ জুলাই ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের হাতে ভুল করে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। অন্যদিকে ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন।

পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলে ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। পরে তারা কেন্দ্রসচিবের কক্ষে গিয়ে বিষয়টি জানান। এ সময় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বস্ত করলে একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ওই দিনই দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এর পরদিন ৩ জুলাই জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত আদেশে কলেজের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ অধ্যাপক এস এম আশাদুল ইসলামকে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ওই কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।