শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে, যা খুব দ্রুততার সঙ্গে করা হয়েছিল। এতে মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে, যেখানে দুই বছরের প্রবেশন সময় রাখা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মকশালায় এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা, মূল্যবোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি চান, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই এসব মূল্যবোধ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে উঠুক।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই জানি, আমাদের দেশে স্কুলে ভর্তি হার তুলনামূলকভাবে কম এবং ড্রপআউটের হারও বেশি। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন স্কুল ড্রেস চালুর। এখন সব শিক্ষার্থী সমানভাবে স্কুল ইউনিফর্ম পাবে। আমরা শুরুতে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করব, যা জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টে শুরু হতে পারে। এর লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসতে আগ্রহী করা।
তিনি বলেন, আগামী বাজেট থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে মিড-ডে মিল চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। যদিও খাবার সরবরাহে কিছু ত্রুটি আমরা পেয়েছি, কিন্তু আমরা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছি। যারা অনিয়ম করছে বা খারাপ, নষ্ট খাবার দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষাখাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশাল। প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এটি অত্যন্ত বড় একটি সেক্টর। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০টি। প্রত্যেক স্কুলে ওয়াশরুম রয়েছে, তবে এ রুম উন্নত করার কাজ করছি।
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে কিছু জটিলতা রয়েছে। বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে, যা এক-দুই দিনের বিষয় নয় এটি তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার কারণে আমরা এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না।
তিনি উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৪ হাজার ৩০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে, যা খুব দ্রুততার সঙ্গে করা হয়েছিল। এতে মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে তাদের নিয়োগ দিবো, যেখানে দুই বছরের প্রবেশন সময় রাখা হয়েছে। আরও প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষক সংকট রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে। আমি উচ্চ মাধ্যমিক বা অন্যান্য স্তরের কথা বলছি না, শুধু প্রাথমিক পর্যায়ের কথাই বলছি।





