গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বুধবার ( ২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের হয়ে স্বাধীনতা চত্তরে গিয়ে শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক সহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
র্যালি শেষে শহীদদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গার্ড অফ অনার এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে সকল পেশার মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমরা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা অর্জন করি। আমরা দেখেছি, স্বাধীনতা অর্জন হলেও তা রক্ষা করা অনেক কঠিন। যেমন, ১৯৯০ সাল ও ২০২৪ সালে বিভিন্ন সংকট এসেছে এবং তা এদেশের ছাত্রসমাজ রুখে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ হিসেবে স্বাধীনতার উদ্দেশ্য সমুন্নত রাখতে হবে। ২৫শে মার্চের কালো রাতে বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষকেরা বেশি আক্রান্ত হয়েছিল। এই দেশ গড়ার জন্য শিক্ষকদের অনেক ভূমিকা আছে। এই গভীর রাতে আমরা শপথ নেই আমাদের এই ৩০ একরের ক্যাম্পাস পবিত্র রাখব এবং প্রতিটি পদক্ষেপ যেন এই ক্যাম্পাসের কল্যাণে হয়।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান বলেন, ২৬শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। ২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে পাক হানাদার বাহিনীর নিশংস হত্যাকাণ্ডের পরে স্বাধীনতার ঘোষণার পরে ছাত্র সমাজ সহ সকল পেশার মানুষ যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে ফলে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা ধারণ করে আজ ২০২৬ সাল স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি।
স্বাধীনতার সব স্বপ্ন আমরা পূরণ করতে পেরেছি সেটা আমরা বলবো না। আমরা যে কারণে যুদ্ধ করেছিলাম সাম্য, ঐক্য ও বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে এমন একটি জাতি গঠন। আমাদের সকলের প্রচেষ্টাতেই এমন একটা জাতি গঠন হবে।
উল্লেখ্য, আজ ভোর ৬টায় সূর্যদয়ের সাথে গার্ড অফ অনার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং বাদ যোহর শহীদদের স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।






