পিএসসি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শীর্ষস্থান—অদম্য মেধা আর প্রত্যাবর্তনের গল্পে যিনি একসময় আলোচনায় ছিলেন, সেই অনন্য গাঙ্গুলীর মৃত্যুর খবরে স্তব্ধ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর। শনিবার রাতে নিজ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও রাধারানী ভট্টাচার্য্য দম্পতির বড় সন্তান অনন্য গাঙ্গুলী একসময় পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি—তিন পরীক্ষাতেই বৃত্তি পেয়ে মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। তবে কলেজ জীবনে মানসিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়ালেখা থেকে দূরে ছিলেন তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে অনন্য গাঙ্গুলী হয়ে ওঠেন ‘অনন্য’। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। বিজ্ঞান শাখা থেকে অংশ নিয়ে তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১০৩ দশমিক ৯৫ (মূল পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৩ দশমিক ৯৫)। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। সে সময় তার এই সাফল্যের গল্প গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
তবে সেই অনুপ্রেরণার গল্প এবার রূপ নিল গভীর বেদনাতে। গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজার পাড়াস্থ নিজ বাসায় তার আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অনন্য গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী ভট্টাচার্য্যের সন্তান। এই দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে অনন্য ছিলেন বড়। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অনন্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের ধারণা, সেই মানসিক যন্ত্রণার কারণেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। অনন্যর বাবা জানান, তাঁর ছেলে অত্যন্ত মেধাবী হলেও কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।






