স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসে অন্যতম বড় আত্মত্যাগ বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড। যা পাকিস্তানি শাসনের নিকৃষ্টতম ও সর্বশেষ অধ্যায়ের সাক্ষী বহন করে। বুদ্ধিজীবীদের হত্যার মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে যেভাবে মেধাশূন্য জাতিতে পরিণত করা হয়েছিল আজকে স্বাধীনতার চুয়ান্ন বছর পেরোলেও আমরা সেই শূণ্যতা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তাই অর্ধশত বছর পরেও শ্রদ্ধাভরে স্বরন করি আমাদের সেইসব সূর্য সন্তানদের যারা একটি সুস্থ, সুন্দর, সুশৃঙ্খল জাতি গঠনের প্রত্যাশায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এ উপলক্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে উঠে আসে বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় সরকার ও নগর উন্নয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সেলিনা শেলী বলেন, ‘বুদ্ধিজীবী দিবস (১৪ ডিসেম্বর) বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গভীর বেদনা বিধুর দিন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পরিকল্পিতভাবে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ বহু বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করে, যাতে জাতিকে মেধা ও নেতৃত্বশূণ্য করা যায়। এই দিবস শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ স্মরণ, নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস জানানো এবং দেশের জ্ঞানী মানুষের অবদানের মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করে এবং জাতির মেধাশক্তিকে সম্মান ও রক্ষা করার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।’
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শেষ সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা জাতির শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করে দেশকে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করে। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—তাদের ত্যাগের প্রকৃত মূল্য শোধ করতে হলে তাদের আদর্শ ও চিন্তাধারায় দেশ গড়ে তুলতে হবে। তাদের অবদান আজও আমাদের পথ দেখায়।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জায়েদ আহম্মাদ বলেন ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আমাদের ইতিহাসের এক গভীর শোক ও দায়বদ্ধতার দিন। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে জাতিকে মেধাশূণ্য করার চেষ্টা করে। এই নৃশংসতা স্বাধীন বাংলাদেশের পথ রোধের শেষ প্রচেষ্টা হলেও তাদের আত্মত্যাগই স্বাধীনতার নৈতিক ভিত্তি শক্ত করেছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান স্মরণ করিয়ে দেয়—এই দেশের মানুষ অন্যায় মেনে নেয় না। তাই আজও ১৪ ডিসেম্বরের শিক্ষা প্রাসঙ্গিক। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা হলো সত্য, মুক্তচিন্তা ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসকেরাতুন নূর বর্ন্যা বলেন, ‘শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস মুক্তিযুদ্ধের এক গভীর বেদনাময় অধ্যায়। ১৯৭১ সালের শেষদিকে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে জাতির চিন্তা ও মেধাশক্তিকে ধ্বংসের চেষ্টা করে। মিরপুর ও রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে এই নৃশংসতা চালানো হয়। এ দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—স্বাধীনতা শুধু যুদ্ধজয়ের ফল নয়, জ্ঞান, মূল্যবোধ ও মননের ওপর নির্মিত। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি রক্ষা করাই আমাদের দায়িত্ব।’







