জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বিতর্কিত ভূমিকা রাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের একাধিক শিক্ষককে হেনস্তা করেছেন ডাকসু’র সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জোবায়েরসহ একদল শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় নীল দলের শিক্ষক সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ. ক. ম. জামাল উদ্দিন, একই বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসাইন ভূঁইয়াসহ পাঁচজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এ পাঁচ শিক্ষককে জুলাই অভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীরা বিভাগে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান আল ফাহাদ জানান, আমরা গিয়ে প্রশ্ন করি গণহত্যায় সমর্থন ও সহযোগিতার অভিযোগে আপনাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। তারপরও ক্যাম্পাসে কেন এসেছেন? এ কথার জবাব না দিয়ে শিক্ষকরা দ্রুত সরে যান। শিক্ষার্থীদের দাবি তাদের আটক করে পুলিশের হাতে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল।

অন্যদিকে নীল দলের শিক্ষক জিনাত হুদা বলেন, তারা শিক্ষকদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ভিসির কাছে স্মারকলিপি দিতে গিয়েছিলেন। ভিসি অনুপস্থিত থাকায় স্মারকলিপি জমা দিতে পারেননি। পরে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক লাউঞ্জে চা পান করতে গেলে বের হওয়ার সময় একদল শিক্ষার্থী তাদের আটকে দেয়।
ডাকসু’র সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়ের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি পোস্ট করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ভবনের সিঁড়ির মুখে অধ্যাপক আ. ক. ম. জামাল উদ্দিনের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছেন জুবায়ের। পেছন থেকে এক শিক্ষার্থীকে বলতে শোনা যায়, আপনি যেতে পারবেন না, আপনি জুলাই অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের ব্রাশফায়ারের কথা বলেছিলেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জামাল উদ্দিনের হুডি খুলে যায়। পরে তিনি দৌড়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে গিয়ে গাড়িতে উঠে শাহবাগ দিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
এ বি জুবায়ের বলেন, আমরা শুনেছি তারা ক্যাম্পাসে এসেছে। আমরা চেয়েছিলাম তাদের ধরে থানায় সোপর্দ করতে। কিন্তু তারা পালিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বয়কট করেছে, তারা অবাঞ্ছিত। জুলাইয়ে এ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ব্রাশফায়ারের কথা বলেছিলেন।






