পূজার ছুটি থাকায় শিক্ষার্থী ছাড়াই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রংপুর এর ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর ২০১৯) সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর মেজর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, বিএনসিসিও দিবসের শুভেচ্ছা বাণী পড়ার মাধ্যমে পৃথক দুই দিন আয়োজিত কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন।

পুজার ছুটির কার‍ণে শনিবার কর্মসূচি পালন ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আগামী ১৬ অক্টোবর বুধবার দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সকালে আজকের দিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধনের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহীয়সী বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিনের কেক কাটেন এবং প্রশাসনিক ভবনের সামনে বৃক্ষ রোপণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর কলিমউল্লাহ।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান এর সঞ্চালনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস রেডিওতে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ মোরশেদ হোসেন।

দিবসটি উপলক্ষে বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়।
ভাইস-চ্যান্সেলর তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষা কার্যক্রমকে সেশনজট মুক্ত করার অনেক গুলো পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন অনুষদ চালুকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশ^বিদ্যালয় থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জার্নাল বাংলা এবং ইংরেজি ভাষায় ইতোমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্যে নতুন নতুন পরিবহন সুবিধা চালু করা হয়েছে। সবকিছু মিলে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য।’ শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ দেশের সকল শহীদকে স্মরণ করেন তিনি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রফেসর কলিমউল্লাহ।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিসমূহে গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. আর এম হাফিজুর রহমান, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৯ উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোঃ মোরশেদ হোসেন, সদস্য সচিব ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল-এর প্রভোস্ট তাবিউর রহমান প্রধান, শহীদ মুখতার ইলাহী হল-এর প্রভোস্ট মোঃ শাহীনুর রহমান, প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) মোঃ আতিউর রহমান, আইকিউএসি-এর পরিচালক প্রফেসর ড. নাজমুল হক, গবেষণা ও সম্প্রসারণ এর পরিচালক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক ড. মোঃ নুর আলম সিদ্দিকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বেরোবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু মোন্নাফ আল কিবরিয়া তুষার ও সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান নোবেল শেখসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

উল্লেখ্য, দুর্গাপূজা এবং লক্ষ্মীপূজার ছুটিকালীন এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হওয়াতে আলাদা দুই দিন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ১৬ অক্টোবরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here