শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা: জবাবদিহিতা ও ক্ষমা প্রার্থনার আহবান ‘সম্যক’ ব্যাচের

প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গত ১৫ জুন মামলা দায়ের করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ হয়রানীমূলক মামলায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং ক্ষমা প্রার্থনার আহবানসহ ৫ দাবি তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সম্যক’ (২০১৬-১৭) ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২৭ জুন) ‘সম্যক’ ব্যাচের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাহ মোঃ মাহমুদুল হাসান, মীর সাব্বির আহ্ম্মেদ চৌধুরী, মেহ্ নাজ মৌমিতা, ইশতিয়াক শিহাব, উমর ফারুক, জাহেদুল ইসলাম অপূর্ব, শর্মিলা সিদ্দিকা মিলা, সাদ আব্দুল্লাহ, মিশকাত মুস্তাফিদ, আসিফ মেসবাহ এ দাবি জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে এ হয়রানীমূলক মামলায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং ক্ষমা প্রার্থনার আহবানসহ ৫টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো- মামলা প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর সময়ের মাঝে নিষ্পত্তি করা, বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাহির ও তার পরিবারের নিকট তাদের করা এই হয়রানীমূলক মামলার জন্য ক্ষমা চাওয়া, ঠিক কী কারণে কোন প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে মাহিরের বিরুদ্ধে মামলা করা হল এবং কেনই বা তা শেষে এসে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হল তা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সকলের নিকট পরিষ্কার করা, ভবিষ্যতে নিজ নিজ মত প্রকাশের জন্য আর কোন শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে যেন এরকম হয়রানীর মুখোমুখি হতে না হয় তার নিশ্চয়তা দেয়া এবং প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে থাকা সবাইকে তাঁদের নিজ নিজ কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা আতঙ্কের এই পরিস্থিতির মধ্যে যেখানে সবাই নিজ জায়গা থেকে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে সেখানে শাবি প্রশাসন একের পর এক প্রশ্নবিদ্ধ কাজের মাধ্যমে নিজেদের স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। যার সর্বশেষ সংযোজন আমাদেরই সহপাঠী মাহির চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গত ১৫ জুনে করা প্রহসনমূলক মামলা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে যদি কেউ জানমালের ক্ষতি সাধন করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মীরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন সে ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হয়ে মামলা করতে পারেন। কিন্তু, মাহির চৌধুরীর ফেসবুক পোস্টে এমন কোনো আলামত ছিল না যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরে কোনো জানমালের ক্ষতি হতে পারে।

মাহিরের এ স্ট্যাটাসের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন সম্পর্ক ছিল না। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের নিজেদের এখতিয়ার বহির্ভূত এই মামলা করে যা স্পষ্টতই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ২৫ জুন রাতে আমরা জানতে পারি যে, শিক্ষার্থীদের চাপে শাবি প্রশাসন মাহিরের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সাথে বিগত ১১ দিনের এই প্রহসনে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করা কর্তাব্যক্তিদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের জন্য তাঁদের জবাবদিহি করা সময়ের দাবি হিসেবে মনে করছি।

শিক্ষার্থীর মামলা তুলে নেয়ার কারণ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোন তথ্য নেই। এ ব্যাপারে আমি কোন কথা বলতে পারবো না।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here