শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতা ভাবনা

স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রান্ত হয়ে ৪৯ বছরে পা রাখল বাংলাদেশ। ৫০ বছর পূর্ণ হবে ২০২১ সালে। সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব মেলাতে চেষ্টা করছি আমরা সকলেই। স্বাধীনতা দিবসে কী ভাবছে আগামীর বাংলাদেশ খ্যাত তরুণ শিক্ষার্থীরা। স্টুডেন্ট জার্নালে আজকের পর্বে থাকছে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম বৃহত্তর চট্টগ্রাম শাখার তরুণ লেখকরা। স্বাধীনতার মাসে তাদের ভাবনা নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।  সেই সব ভাবনার চুম্বক অংশ তুলে ধরছেন— আমজাদ হোসেন হৃদয়।

প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনতার স্বাদ পাক

১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮ বছরেও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি দেশের মানুষজন। ৩০ লাখ শহিদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশের নাগরিকদের মধ্যে আজ অধিকাংশজনই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করছে, যাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত নয়, এক শ্রেণীর লোক ধনী থেকে আরো ধনী হচ্ছে, আর নিরীহ মানুষজন মৌলিক চাহিদাগুলো মিটিয়ে চলার জন্য সংগ্রাম করছে। ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে একশ্রেণীর মানুষ সীমাহীন দূর্নীতিতে নিমজ্জিত, ঋণখেলাপী, অর্থপাচার, অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ায় ব্যস্ত তারা। স্বাধীনতার ৪৯তম বৎসরের শুরুতে স্বপ্ন দেখি স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাবে বাংলাদেশের সকল নাগরিক এবং মধ্যবিত্ত, দরিদ্র অসহায় মানুষগুলো সকল চাহিদা মিটিয়ে সুখী জীবন যাপন করবে।

জুবায়ের আহমেদ। শিক্ষার্থী, বিজেম, ঢাকা।

শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার মান, সুষ্ঠ পরিবেশ, সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাধীনতার ৪৭ বছরে বাংলাদেশের অনেক সাফল্য আছে। অগ্রগতি আছে। বাংলাদেশ এখন পৃথিবীতে দুর্যোগ-দুর্বিপাকের দেশ হিসেবে পরিচিত নয়। বাংলাদেশ এখন ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে বিশ্বমোড়লদের কাছে ছোটাছুটি করে না। উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, বিশেষায়িত শিক্ষার মান নিয়ে আছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা। শিক্ষাঙ্গনে নেই শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ। অন্যায়, অনিয়ম, মারামারি এগুলো যেন ক্যাম্পাসগুলির নিত্যদিনের ঘটনা। এরপর আসি সুশাসনে, এ দেশে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সুশাসনের ক্ষেত্রে। আমরা কেন যেন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, গোষ্ঠী ও দলপ্রীতির বাইরে যেতেই পারি না। তাই বলবো এই স্বাধীনতার মাসে আমাদের প্রতীজ্ঞা করতে হবে এতদসকল অনিয়মের বেড়াজাল, শিক্ষার সঠিক পরিবেশ, সুশাসন নিশ্চিত করা।

মো. আরিফুল ইসলাম। আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।

যোগ্যতার মূল্যায়নই স্বাধীনতার প্রধান চাহিদা

স্বাধীনতাপূর্ব ইতিহাস এদেশের মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস। ১৯৭০ এর নির্বাচনে আমরা বিজয় লাভ করলেও ক্ষমতা কুক্ষীগত করে রাখে পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষমতালোভী দোসররা। রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্যতা আমাদের থাকলেও হয়েছি অবমূল্যায়িত, শোষিত। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ সর্বক্ষেত্রে ছিলো অবহেলিত, হোক তা সরকারি চাকুরী কিংবা স্থানীয় উন্নয়নের বরাদ্দ।

আজ আমরা স্বাধীন জাতি। এখনো লোকমুখে প্রচলিত সত্য- ‘মেধা নয়, মামার জোরে চাকুরি মিলে’। এখনো এদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। এদেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে দেখে-দেখে বাংলা পড়তে না পারা মানুষগুলো। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সূর্যোদয়ে দাঁড়িয়ে আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই, এদেশে একদিন যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে— রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে শিক্ষিত ও যোগ্যরা। বিশ্বের বুকে আমরা মাথা তুলে দাঁড়াবোই। যোগ্যতার মূল্যায়নই যে ছিলো স্বাধীনতার অন্যতম চাহিদা।

শায়খ মুশফিক ইলাহী, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ।

স্বাধীনতা রক্ষায় সর্বাভৌমত্বের গুরুত্ব অপরিসীম

একটি স্বাধীন দেশ পরিচালনার প্রধান বিষয় সেই দেশের সর্বাভৌমত্ব। সর্বাভৌমত্ব মূলত তিনটা বিষয়ের সামষ্টি ও সমন্বয়। আইন, বিচার এবং শাসন। সর্বাভৌমত্ব কে প্রত্যাখ্যান করে কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র চলতে পারে না। সঠিক সর্বাভৌমত্ব পরিচর্যাই পারে দেশের অন্যায়, অত্যাচার, অনৈতিক কর্মকান্ডকে রুখে দিতে। যে রাষ্ট্র দুর্বল, যার অর্থনীতি পরমুখাপেক্ষী, যার গণতান্ত্রিক কাঠামো নড়বড়ে, যেখানে সরকার ও নাগরিকের মধ্যে যোজন দূরত্ব সে রাষ্ট্রের সর্বাভৌমত্ব ও দুর্বল হতে বাধ্য। শুধু কাগজেকলমে থাকলেই হবে না, তাকে রক্ষা করার ক্ষমতা ও থাকতে হবে। দেশের সর্বাভৌমত্ব রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি জনগণকে ও ভূমিকা রাখতে হবে। তাই মহান স্বাধীনতার মাসে প্রতিটি নাগরিকের মূল্য লক্ষ্য হোক স্বাধীনতা ও সর্বাভৌমত্ব রক্ষা করা। তবেই গড়ে উঠবে স্বাধীন ও সর্বাভৌমত্ব সম্পূর্ণ বাংলাদেশ।

উম্মে কুলসুমা রিপা। মহিপাল সরকারি কলেজ, ফেনী।

পেতে চাই প্রাপ্য স্বাধীনতার স্বাদ

স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। কিন্তু আমরা সেই স্বাধীনতা কিনে নিয়েছি তাজা রক্তের বিনিময়ে। দীর্ঘ নয় মাস স্বাধীনতা আদায়ের সংগ্রামের মাধ্যমে। জীবন বাজি রাখতে হয়েছিল অসংখ্য নবীন-প্রবীণ, বয়োজ্যেষ্ঠ সহ শিশু কিশোরের। নিজেদের সতীত্ব বিলিয়ে দিতে হয়েছিল অসংখ্য মা এবং বোনের। কেবল স্বাধীনতারর জন্য। স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু প্রত্যক্ষদৃষ্টিতে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, যেই স্বাধীনতারর জন্য বায়ান্ন পেরিয়ে একাত্তর পর্যন্ত লড়েছে বীর বাঙালি। সেই স্বাধীনতা এখন কারারুদ্ধ। বাক স্বাধীনতা নেই এখন। নেই চলার বলার স্বাধীনতা। স্বাধীনতা নেই মত প্রয়োগের। নেই ততটুক। যতটুক পাওয়ার জন্য রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়েছে। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। এই লাইনটি ছাত্রজীবনে কমবেশি সবাই পড়েছি। কিন্তু বাস্তব উপলব্ধি কয়জনেরই বা হয়। যাদের হয় তা গণনায় অতি সামান্য। কিন্তু না; আমাদের ভাবা উচিত দেশ নিয়ে। দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে। দেশের স্বাধীনতা নিয়ে। তবেই আগামী জাতি পাবে প্রকৃত স্বাধীনতা। প্রাপ্য স্বাধীনতার স্বাদ।

আব্দুল্লাহ শাহজাহান। ফেনী সরকারী কলেজ, চট্টগ্রাম।

দূর্নীতি রুখলেই সঠিক স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া যাবে

স্বাধীনতা বজায় রাখতে হলে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা ও অনৈক্যের অবক্ষয়ে ডুবে গেলে ছোট শত্রুও ‘বড় ভূমিকা’ রাখার সুযোগ পেয়ে যায়। তাই আমানতদারির জীবন অবলম্বন করতে হবে। এই আমানতদারি দ্বিমুখী। বান্দার প্রতি আল্লাহর আমানত। মানুষের প্রতি মানুষের আমানত, এই দুই আমানতের যথাযথ মর্যাদা দিলে ইনশাআল্লাহ স্বাধীনতার সুরক্ষা নিয়ে বারবার শংকিত হতে হবে না এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাধীনতার প্রাণ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো কোনো শক্তির মুখোমুখিও হতে হবে না আমাদের। তাই স্বাধীনতার মাসে শপথ হোক- “দূর্নীতি রুখবো হাতে রেখে হাত, বিজয় সুফল আসবেই পেরিয়ে কালো রাত।’

ছামির আলী ভূঁইয়া। সুফিয়া নূরীয়া ফাজিল মাদ্রাসা, মীরসরাই, চট্টগ্রাম।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here