সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে তরুণদের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে অনলাইন রেডিও। বেতারের রেডিও তেমন আকর্ষণ না করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ক্যাম্পাস রেডিও। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের হাসি-কান্না সবই ফুটে উঠে এখানে। একটি রেডিও তৈরি করে ভিন্ন এক আবহ। যার ছায়াতলে জায়গা করে নেয় প্রতিটি প্রাণ। এমনি একটি ক্যাম্পাস ভিত্তিক রেডিও ‘রেডিও কুবি’। প্রতিষ্ঠার দুই বছরে যা স্থান করে নিয়েছে প্রতিটি কুবিয়ানের প্রাণে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে দেশের ১১ তম ক্যাম্পাস রেডিও হিসেবে যাত্রা শুরু করে ‘রেডিও কুবি’। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি বিষয়ক সংগঠন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইটি সোসাইটির একক পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে চলছে রেডিওটি। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাস আড্ডা, সংগীত অনুষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে আলোচনায় এই ক্যাম্পাস রেডিওটি ।

একটি সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অনলাইন রেডিওটিতে মাসে প্রায় ৫ টি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। এর মধ্যে মিউজিক শো, মেঘদূত, ভুত অদ্ভুত, সেলেব্রিটি শো, ক্যাম্পাস আড্ডা নিয়মিত হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে ১০ জন রেডিও জকিসহ (আরজে) ২৫ জন শিক্ষার্থীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে টিম রেডিও। রেডিও কুবির নিজস্ব ওয়েবসাইট ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেকোনও অনুষ্ঠানে সম্পৃক্ত হতে পারে। ভার্চুয়াল দুনিয়ার সাহায্যে শিক্ষার্থীরা দূরে গেলেও টিম রেডিওর কল্যাণে সবসময় থাকে প্রিয় ক্যাম্পাসেই।

শুরু থেকেই রেডিওতে আরজে হিসেবে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী লুবাবা ইফতেখার। বর্তমান সমাজের বাস্তবতায় একজন মেয়েকে একটু রাত করে বাড়িতে ফিরলে অনেক কথা শুনতে হয়। কিন্তু ক্যাম্পাস রেডিওর প্রতি ভালবাসা তাকে এই ভয় জয় করতে শিখিয়েছে। সেই সাথে মানুষের সাহায্য করেছে মানুষের সাথে মিশতে। এভাবেই রেডিও কুবির সাথে জড়িত হওয়ার কথা বলছিলেন এই আরজে। তিনি বলেন, আমি অনেক সংগ্রাম করে জকির কাজটি চালিয়ে যাচ্ছি। তাই সবসময় চেষ্টা করি শো চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি মেসেজ পৌঁছে দিতে। সেই মেসেজ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার। সমাজ থেকে সত্যকে দূর করার।

প্রায় দুই বছরের এই পথচলা রেডিও কুবির জন্য তেমন সুখকর ছিলনা। রেডিওটির জন্য কোনও রুম না থাকায় অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে ধকল সইতে হয় টিম রেডিওকে। তবে বর্তমানে বিসিএস কনফিডেন্সের সহায়তায় সমস্যা কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। টিমের সকলের আন্তরিকতা ও ক্যাম্পাসের প্রতি ভালবাসায় এ কয়দিনে প্রতিটি শিক্ষার্থীর মনে জায়গা করে নিয়েছে রেডিও কুবি। ক্যাম্পাসের বাহিরে কখনো ক্যাম্পাসের কথা মনে পড়লেই রেডিও কুবিই যেন তাদের একমাত্র সমাধান। এর সাথে যুক্ত হয়েই শিক্ষার্থীরা পায় প্রিয় অঙ্গনের পরশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও নিজেদের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠা করেছে। যা আমাদের কথা বলে। টিম ‘রেডিও কুবি’ খুব ভালো করছে, সামনের দিনেও তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে।

টিম রেডিও কুবির অন্যতম সমন্বয়ক ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শিহাব উদ্দিনের সাথে কথা হয় রেডিও কুবির ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে। তিনি বলেন, আইটি সোসাইটি সবসময় চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে ভিন্ন কিছু উপহার দেওয়ার। এমনি একটি উপহার রেডিও কুবি। যা সবসময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলবে। আমরা শুধু অনুষ্ঠান প্রচারেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাইনা। দেশ সেরা আরজে তৈরি করতে চাই। আমাদের ক্যাম্পাস আরজেরা একদিন দেশ সেরা হবে বিশ্বাস করি। শিহাব আরো বলেন, আমরা সবাই শিক্ষার্থী। নিজের খরচে আমাদের সংগঠন করতে হয়। একটি অনলাইন রেডিও চালাতে অনেক খরচ হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এ বিষয়ে নজর দিলে আমরা আরো ভালো করবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here