ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীকে তার কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছে ওই হলের ছাত্র সংসদ ও কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা।

গত কাল শনিবার (৯ নভেম্বর) রাত দুইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত হল সংসদের নেতারা হলেন ছাত্রলীগ প্যানেল থেকে নির্বাচিত ওই হল সংসদের সহ-সভাপতি কামাল হোসেন, সমাজসেবা সম্পাদক মিলন ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক সোহরাব সাগর। ছাত্রলীগ নেতারা হলেন আরিফুল ইসলাম ও নাজমুল হাসান। আরিফ ওই হলের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী। তারা দু’জনে ওই হলের আগের কমিটির সহ-সভাপতি এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের অনুসারী।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর নাম এস এম বাপ্পী। তিনি ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সহ সম্পাদক। তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী।

ভুক্তভোগী এস এম বাপ্পী স্টুডেন্ট জার্নাল কে বলেন, তিনি ১০৪ নম্বর কক্ষে থাকেন। হল প্রশাসন থেকে তাকে ওই আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ মাস ধরে তিনি ওই কক্ষে থাকছেন।

হল সূত্রে জানা যায়,গতকাল শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বাপ্পীর জিনিসপত্র হল থেকে বের করে দেন এসএম হল সংসদের ভিপি কামাল হোসেন, পাঠকক্ষ সম্পাদক সোহরাব সাগর ও সমাজসেবা সম্পাদক মিলনসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। জিনিসপত্র বের করার পর বাপ্পীকে তাঁরা গণরুম হিসেবে ব্যবহৃত ১৭৯ নম্বর কক্ষে যেতে বলেন। পরে বাপ্পী হলের বারান্দায় রাত কাটান।

বাপ্পী আরও জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক পান্থকে তার কক্ষে উঠাতে হল সংসদ ও ছাত্রলীগের নেতারা তাকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করছে। অথচ পান্থের হল প্রশাসন থেকে বরাদ্দকৃত কক্ষ হচ্ছে ৬৯। তিনি ওই কক্ষে কয়েকদিন থেকেও ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, তারা এক কক্ষে দুই জন থাকেন। তার রুমমেটের নাম লুৎফর রহমান শিকদার। তার শিক্ষাবর্ষ ২০১০-১১। তার ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে ৪ বছর। অথচ তারা একজন অবৈধ শিক্ষার্থীকে বের না করে তাকে (বাপ্পী) বের করে দিচ্ছে।

এই বিষয়ে জানতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল সংসদ সহ-সভাপতি কামাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমরা ছাত্র প্রতিনিধিরা জানার আগে আপনারা সাংবাদিকরা জেনে যান। তাহলে সমস্যাটা আপনারা সমাধান করলেই পারেন।

ওই প্রতিবেদকের ওপর রেগে ভিপি বলেন আপনাদের সাথে কথা বলার টাইম নাই। তারপর তিনি ফোন কেটে দেন।

তবে ওই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) জুলিয়াস সিজার তালুকদার বলেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী তার কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেছেন।কিন্তু লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি।যদি লিখিত অভিযোগ দেন তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ ও হল সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলম জোয়ার্দারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here