শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতি, এমপিও বাতিল কলেজের

জালিয়াতি করে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞগাঁতী এস কে মডেল কারিগরি হাই স্কুল এন্ড বিএম কলেজের ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা(বিএম) শাখার এমপিও বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত থাকা তিন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল করা হয়েছে। একইসাথে তাদের নাম এমপিও ডাটাবেজ থেকে বাদ দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে শিক্ষকদের এমপিও নাম বাদ দেয়ার বিষয়টি জানিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে।

এমপিও বাতিল করা শিক্ষকরা হলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিএম শাখার বাংলা প্রভাষক মো. আশাদুল ইসলাম, অফিস সহাকারী কাম হিসাব সহকারী মো. এরশাদ আলী ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের মেয়ে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেন্ট লাবনী খাতুন।

জানা গেছে, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া শর্ত অমান্য করে ভুয়া শিক্ষকের নামে এমপিও টাকা উত্তোলন করেছেন তিনি। বেআইনিভাবে স্পেশালাইজেশন ও নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে তিনজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়ে বেতন-ভাতা উত্তোলন করায় তাদের এমপিও চূড়ান্তভাবে বাতিল করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। একইসাথে তিন শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও চূড়ান্তভাবে বাতিল করে টাইমস্কেল বাবদ উত্তোলিত টাকা চালানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে দৈবজ্ঞগাঁতী এস কে মডেল কারিগরি হাই স্কুল এন্ড বি. এম কলেজের প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠে। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তা সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছিল। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্নসচিব (প্রশাসন ও অর্থ) এস এম মাহাবুবুর রহমান এবং সদস্য যুগ্নসচিব (কারিগরি-৩) মো. আয়াতুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক (এমপিও) জহুরুল ইসলাম। তদন্তে অভিযোগ গুলো প্রমাণিত হওয়ায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির এমপিও বাতিল ও শিক্ষকদের এমপিও চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে দৈবজ্ঞগাঁতী এস কে মডেল কারিগরি হাই স্কুল এন্ড বি. এম কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ২৩ নভেম্বর মো. বাবুল আকতার নামের এক ভুক্তভোগী বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here