রোজাদারের জন্য ১০টি সুসংবাদ!

সাওমের আভিধানিক অর্থ হলো, বিরত থাকা। পারিভাষিক অর্থ হলো- দিনের বেলায় নিজেকে খানাপিনা, সহবাস থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

এই সাওম আমাদের উপর ফরজ করা হয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর। (সূরা বাকারাহ- ১৮৪)

এতে বুঝা গেল, রোজা কেবল আমাদের জন্যই ফরজ করা হয়েছে এমন নয়। বরং আমাদের পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলদের উম্মাতের জন্যও ফরজ ছিল। তবে আমাদের জন্য এই মাস বিশেষ একটি মাস। কারণ, এই মাসে রবের তরফ থেকে আমাদের বিধান ( আল-কুরআন) নাজিল হয়েছে।

যারা দিনের বেলায় নিজেকে খাবারদাবার, সহবাস থেকে নিজেকে বিরত রাখে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাদের জন্য রয়েছে দশটি সুসংবাদ! হ্যাঁ, দশটি সুসংবাদ!

১. রোজা তাকওয়া অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা এরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরয করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর।যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার। (সূরা বাকারাহ- ১৮৪)

আমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে আমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারি। এতে বুঝা গেল, রোজা তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাকওয়া মুমিনের জন্য অতি গুরত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাকওয়া হলো, দুনিয়া ও আখেরাতের মূল সাফল্যের চাবিকাঠি!

২. রোজা পূর্বের গুনাহসমূহ মুছে ফেলে। প্রত্যেক আদম সন্তান গুনাহগার। এবং আল্লাহতায়ালাও চান যে, আদম সন্তান গুনাহ করে আল্লাহর দরবারে তওবাহ করুক। কারণ, যদি বনী আদম গুনাহ না করত, তাহলে আরেকটি জাতি সৃষ্টি করতো; যারা গুনাহ করে ক্ষমা চাইতো।

আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও নেকির আশায় রমজান মাসের রোজা রাখে (এবং রাতে) দণ্ডায়মান হয় (সালাত পড়ে) তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করা হয়। (সহীহুল বুখারি- ৩৮)

সুবহানাল্লাহ! রোজাদারের জন্য এরচেয়ে বড় খুশির সংবাদ আর কী হতে পারে!

৩. রোজার প্রতিদান আল্লাহ নিজেই দেন। বনী আদমের পুণ্য কাজের বদলা ফেরেশতাদের মাধ্যমে দেন। কিন্তু, রোজাদারের বদলা আল্লাহ নিজেই দেন!

অথবা বলা হয়, রোজাদারের বদলা আল্লাহ স্বয়ং নিজেই! আর যার জন্য আল্লাহ আছে, তার জন্য আর কী-বা লাগে! জান্নাত তো তার জন্যই হয়ে যাবে!

আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মহান আল্লাহ বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি সৎকর্ম তার জন্যই; কিন্তু রোজা স্বতন্ত্র, তা আমারই জন্য! আর আমিই তার প্রতিদান দেব! (সহিহুল বুখারি – ১৯০৪)

৪. রোজা কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত, কিয়ামতের দিন সাওম ও কুরআন সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে- ‘হে আমার রব! আমি তাকে দিনে খানাপিনা ও জৈবিক চাহিদা থেকে বিরত রেখেছি। আপনি তার ব্যপারে আমার সুপারিশ কবূল করুন।’

কুরআন বলবে— হে আমার রব! আমি তাকে রাতে ঘুমুতে দিইনি। আপনি তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবূল করুন! সিয়াম ও কুরআন উভয়ের সুপারিশ কবূল করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ ৬৬২৬)

৫. রোজা জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়। হাদিস শরীফে এসেছে- যে-ব্যাক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে গিয়ে রোজা রাখবে, আল্লাহ তাআলা তাকে ৭০ বছরের দূরত্বে নিয়ে যান! (সহিহুল বুখারি- ২৮৪০)

৬. রোজার সমকক্ষ কোনো আমল নেই। আবু উমামা (রা.) বলেন- আমি একবার হুযুরকে (সা.) জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! সবচেয়ে উত্তম আমল কী? রাসূল (সা.) বলেন, তুমি সাওমকে আঁকড়ে ধরো! কেননা, সাওমের সমকক্ষ কিছুই নেই! (নাসাঈ- ২২২২)

৭. রোজাদারের দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। হাদিসে এসেছে, হুযুরে পাক (সা.) এরশাদ ফরমান— তিন ব্যক্তির দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেওয়া হয় না। পিতার দোয়া, রোজাদারের দোয়া ও মুসাফিরের দোয়া। (আস-সুনানুল কুবরা লিল বাইহাকি ৬৩৯২)

৮. জান্নাতে রোজাদারের জন্য রয়েছে বিশেষ দরজা। যেই দরজা দিয়ে শুধুমাত্র রোজাদাররা ব্যতিত কেউ প্রবেশ করতে পারবেনা। সুবহানাল্লাহ!

হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) এরশাদ ফরমান— জান্নাতে রায়য়ান নামক একটি ফটক আছে। কিয়ামতের দিন রোজাদারেরা এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করবে। রোজাদার ব্যতিত কেউ এই ফটক দিয়ে প্রবেশ করত পারবেনা। (সহিহুল বুখারি ১৮৯৬)

৯. রোজাদার জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা লাভ করবে। হাদিসে এসেছে— জান্নাতে একটি প্রাসাদ আছে। যেই প্রাসাদের ভেতর থেকে বাহিরে, বাহির থেকে ভেতরে দেখা যাবে। এই প্রাসাদটি আল্লাহ তাআলা সেই সব ব্যক্তির জন্য প্রস্তুত করেছেন, যারা মানুষকে আহার করায়, নম্র ভাষায় কথা বলে, নিয়মিত রোজা রাখে এবং তাহাজ্জুদ আদায় করে।

১০. রোজা জৈবিক তাড়নাকে দমন করে। আমরা সবাই মানুষ। আমাদের জৈবিক চাহিদা থাকতেই পারে। তবে, সেটা মেটাতে হবে শরিয়ত অনুযায়ী। অন্যথা গুনাহগার হব। আর রোজা সেই জৈবিক তাড়নাকে দমন করে।

হাদিসে এসেছে, আর যুবকদের মধ্যে যাদের বিয়ে করার সক্ষমতা নেই, তারা যেন সওম পালন করে। কেননা, সাওম জৈবিক তাড়নাকে দমন করে। (সহিহুল বুখারি- ৫০৬৫)

আর এসব সুসংবাদ শুধুমাত্র একজন রোজাদারের জন্য। তাই আসুন রমজানের রোজার প্রতি গুরুত্ব দিই।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রমজানের পবিত্র রোজাগুলো রাখার তাওফিক দিন-আমীন!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here