রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা ওই বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগরকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে মৌন মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ড. শামসুজ্জোহা চত্বরে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের একাংশ এ মানবন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সভ্য মানুষের জায়গা। এখানে মত পার্থক্য-দ্বিমত থাকবেই। ক্রপ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগর নিজ বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেছিলেন। উচ্চ আদালত তার রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সেই নিয়োগ বাতিল করেছিল। এ বিষয় নিয়ে কিছুদিন আগে অধ্যাপক মো. খাইরুল ইসলাম তাকে হত্যার হুমকি প্রদান করেছিলেন। এ ঘটনায় অধ্যাপক আসগর থানায় জিডি করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ছাড়া বক্তরা বলেন, এ ঘটনা শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কজনক। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, অধ্যাপক খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এ ছাড়া তার সদস্য পদ বাতিল করতে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের প্রতি বক্তারা আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এস এম একরাম উল্যাহ, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. ইলিয়াছ হোসেন, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সোলাইমান চৌধুরী, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান চঞ্চল প্রমুখ।

এর আগে, ড. শামসুজ্জোহা চত্বর থেকে একটি মৌন মিছিল বের হয়ে ক্যাম্পাসে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অফিসে ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক মু. আলী আসগরকে বিভাগের আরেক অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেন অভিযুক্ত একই বিভাগের অধ্যাপক খাইরুল ইসলাম।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here