মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডের রায়, কোরআনের উদ্ধৃতি দিলেন বিচারক

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন শরীফে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে বলেন, ‘তারা তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাদের আবরণ’ বলে মন্তব্য করে পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বিচারক রাজধানীর কাকরাইলের আলোচিত মা-ছেলে হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণায় স্ত্রী-সন্তানকে হত্যায় স্বামীর নির্মমতার ভূমিকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

রোববার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

বিচারক রায়ে বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের যে সকল নিয়ামত দান করেছেন তার মধ্যে সুসন্তান অন্যতম। আবার সন্তানের আশা ভরসার শেষ আশ্রয়স্থলও তার পিতা। আর স্ত্রী হলেন সহধর্মিনী, অর্ধাঙ্গীনী ও সন্তানের জননী। সে কারণে প্রত্যেক স্ত্রী তার স্বামীর কাছে সম্মানের পাত্রী। স্বামীর নিকট স্ত্রীর রয়েছে বহুমাত্রিক অধিকার। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের সহায়ক ও পরিপূরক। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন শরীফে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কে বলেন, ‘তারা তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাদের আবরণ’। (সূরা: ২ বাকারা, আয়াত ১৮৭)।

পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, এই মামলায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড হলেন আসামি আ. করিম। যিনি নিহত শামসুন্নাহারের স্বামী ও সাজ্জাদুল করিম শাওনের পিতা। নিজের অসৎ উদ্দেশ্য ও হীন স্বার্থ চরিতার্থ করতে আসামি শারমিন আক্তার মুক্তা ও আসামি মো. আল আমিন জনির সঙ্গে পূর্ব পরিকল্পনা করে নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে নৃঃশংসভাবে হত্যা করিয়েছেন। সে কারণে সকল আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত মর্মে এই আদালত মনে করেন।

আদালত কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে আরও বলেন, ইসলাম শান্তি ও সত্যের ধর্ম। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের সূরা মায়িদাহ এর ৩২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে ‘যে কেউ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য কোনো প্রাণের বিনিময় ব্যতীত কিংবা পৃথিবীতে কোনো ফ্যাসাদ সৃষ্টির অপরাধ ছাড়া, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল। এই অবস্থায় আদালত মনে করেন, মৃত্যুদণ্ডই এই আসামিদের উপযুক্ত ও একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত। সেহেতু এই আদালত সকল আসামিদের দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২ ধারা ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমান করা হলো।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here