বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের সুপারিশ আসছে শিগগির। নতুন শিক্ষাবর্ষে যাতে লেখাপড়া বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে দ্রুত এ সুপারিশ করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।

আগামী মার্চের মধ্যেই এসব শূন্যপদ পূরণ করা হবে বলে আমাদের সময়কে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

এদিকে ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল। এতে স্কুল ও কলেজে ১৮ হাজার ৩১২ প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যানুযায়ী, এনটিআরসিএর সাবেক চেয়ারম্যান এএসএম আজহার গত সেপ্টেম্বরে অবসরে যান। তার স্থালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলালকে নিয়োগ দিলেও তিনি যোগদান করেননি। তাই ১৬ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (বোর্ড প্রশাসন) এসএম আশফাক হুসেনকে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর এ সময়টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদ-উল হক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে চেয়ারম্যান ছিলেন।

এনটিআরসিএর সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদও দুই দফায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ১৮ দিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে এ দুই মাস প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির ছিল। অতিরিক্ত সচিব এসএম আশফাক হুসেন গেল ১৮ নভেম্বর যোগদানের পর তা অবশ্য কেটে গেছে। সেই সঙ্গে প্রায় এক বছর পর প্রকাশ করা হলো ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল।

এনটিআরসিএর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আগামী মার্চের মধ্যেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৪০ হাজার শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগের সুপারিশের জন্য মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে। ইতোমধ্যে কাজও শুরু হয়ে গেছে। এ লক্ষ্যে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শূন্যপদের তালিকা হালনাগাদের তথ্য চেয়েছে এনটিআরসিএ। এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি শূন্যপদের তথ্য পাওয়া গেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের লেখাপড়া যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য আগামী জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই এসব শূন্যপদ পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।

এদিকে এনটিআরসিএর নতুন চেয়ারম্যান এক বার্তায় জানান, আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৬০ হাজার শিক্ষক বেসরকারি স্কুল-কলেজে নিয়োগের সুপারিশের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (বিপিএসসি) আদলে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন চেয়ারম্যান।

১৪তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণ ১৮ হাজার ৩১২ জন : গতকাল প্রকাশিত ১৪তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় স্কুল ও কলেজে ১৮ হাজার ৩১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ে পাস করেছেন ৫৫৪ জন (পুরুষ ৪০৭ ও নারী ১৪৭), স্কুল পর্যায়ে ১৪ হাজার ১৭৮ জন (পুরুষ ৯ হাজার ৬৬২ ও নারী ৪ হাজার ৫১৬) এবং কলেজ পর্যায়ে ৩ হাজার ৫৮০ প্রার্থী (পুরুষ ২ হাজার ৭৭ ও নারী ১ হাজার ৫০৩)। গত ৮ ও ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষায় ১৯ হাজার ৮৬৩ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে স্কুল-২ পর্যায়ের ৫৬৫, স্কুল পর্যায়ে ১৪ হাজার ৪৫৯ এবং কলেজ পর্যায়ের ৩ হাজার ৬৮৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here