মশা তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়ে

ভাদ্র মাসে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশার উপদ্রবও বাড়তে থাকে। মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে ম্যালেরিয়া,ডেঙ্গু,চিকুনগুনিয়া। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না খুব সহজেই এই মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে পারেন। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক দুটি প্রাকৃতিক কার্যকরী উপায়, যার মাধ্যমে মশা মুক্ত হবে আপনার ঘর।

লেবু ও লবঙ্গের ব্যবহার
একটি গোটা লেবু দুই টুকরো করে কেটে নিন। এর পর কাটা লেবুর ভেতরের অংশে বেশ কয়েকটা করে লবঙ্গ গেঁথে দিন। লবঙ্গের শুধুমাত্র মাথার দিকের অংশ বাইরে রাখুন। এর পর লেবুর টুকরোগুলো একটি প্লেটে রেখে ঘরের কোণায় রেখে দিন।ব্যস, এতেই বেশ কয়েকটা দিন মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এই পদ্ধতিতে মশা ঘরের ধারেকাছে ঘেঁসবে না একেবারেই। এ ছাড়া লেবুতে লবঙ্গ গেঁথে জানালার গ্রিলেও রাখা যেতে পারে। এতেও মশার ঘরে ঢোকার পথ বন্ধ হবে।

নিমের তেলের ব্যবহার

নিমের মশা তাড়ানোর বিশেষ একটি গুণ রয়েছে। নিমের তেল ত্বকের জন্যও বেশ ভালো। তাই একসাথে দুটি উপকার পেতে ব্যবহার করতে পারেন নিমের তেল। সমপরিমাণ নিমের তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে নিন। দেখবেন মশা আপনার ধারে কাছে ভিড়বে না এবং সেই সাথে ত্বকের অ্যালার্জি, ইনফেকশন জনিত নানা সমস্যাও দূর হবে।

পুদিনার ব্যবহার

ছোট গ্লাসে একটু পানি নিয়ে তাতে ৫ থেকে ৬ গাছি পুদিনা রেখে দিন খাবার টেবিলে। ৩ দিন অন্তর পানি বদলে দেবেন। জার্নাল অফ বায়োরিসোর্স টেকনোলোজির গবেষণা মতে তুলসির মতো পুদিনা পাতারও রয়েছে মশা দূরে রাখার ক্ষমতা। শুধু মশাই নয় পুদিনার গন্ধ অনেক ধরণের পোকামাকড়কে ঘর থেকে দূরে রাখে। পুদিনা পাতা ছেঁচে নিয়ে পানিতে ফুটিয়ে নিন। এই পানির ভাপ পুরো ঘরে ছড়িয়ে দিন। দেখবেন ঘরের সব মশা পালিয়েছে। চাইলে পুদিনার তেলও গায়ে মাখতে পারেন।

কর্পূরের ব্যবহার
কর্পূরের গন্ধ মশা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। আপনি যে কোনো ওষুধের দোকানে বা মুদির দোকান থেকেও কর্পূরের ট্যাবলেট কিনে আনতে পারেন। একটি কর্পূরের টুকরা পাত্রে নিয়ে তা পানি দিয়ে পূর্ণ করুন। এর পর এটি ঘরের কোণে রেখে দিন। অল্প সময়ের মধ্যেই ঘর থেকে মশা গায়েব হয়ে যাবে।দুদিন পর ওই পাত্রের পানি পরিবর্তন করুন। পাত্রে রাখা আগের পানি ফেলে দেবেন না। এই পানি দিয়ে ঘর মোছার কাজে ব্যবহার করলে ঘরে পিঁপড়ার উপদ্রব থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here