রীতিমতো ধারাভাষ্য দিয়ে বেড়ান তিনি। কিন্তু সমস্যা হলো বাচনভঙ্গিতে। না, ভারতের সাবেক বিধ্বংসী ওপেনার বীরেন্দ্র শেবাগ ইংরেজিতে মোটেও দুর্বল নন। আন্তর্জাতিক ভাষাটির ওপর বেশ দক্ষতা আছে তার।

ব্রিটিশ একসেন্টে ইংরেজি উচ্চারণ যেমন, আমেরিকান বাচনভঙ্গিতে তা বদলে যায়। আবার আফ্রিকান বা উপমহাদেশীয় ইংরেজির উচ্চারণও ভিন্ন। এই বাচনভঙ্গি বুঝতে ভুল করায় এখন পাকিস্তানি সমর্থকদের হাসির পাত্র হয়েছেন বীরেন্দ্র শেবাগ। কারণ তিনি ভুল শব্দে ইমরান খানকে ঘায়েল করতে চেয়েছিলেন!

কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বেশ সরগরম হয়ে আছে ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গন। এর মাঝেই ৭৪তম অধিবেশনে একটি বিতর্কিত ভাষণ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরপর তিনি এমএসএনবিসি টিভি চ্যানেলের টক শো ‘মর্নিং জো’-তে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে ইমরান আমেরিকার সমালোচন করে বলেন, ‘এই অর্থহীন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যখন আফগানিস্তানে টাকা ঢালছে চীন তখন প্রথম বিশ্বের অবকাঠামো গড়ে তুলছে।

চীনে গিয়ে দেখুন ওদের অবকাঠামো। আমি তো নিউইয়র্কে এসে দেখছি গাড়িগুলো ধাক্কা খাচ্ছে। ‘
ইমরানের বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানের উপস্থাপক জো স্কারবরো ঠাট্টার ছলে ইমরানকে খোঁচা মারেন। তিনি বলেন, ‘আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে না আপনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। মনে হচ্ছে ব্রংক্সের (নিউ ইয়র্কের শহর) কোনো ভোটার যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো নিয়ে অভিযোগ করছে। ‘ স্কারবরোর এই মন্তব্য বুঝতে শেবাগ ভুল করেছেন। আমেরিকান উচ্চারণে স্করবরো যখন ‘ভোটার’ শব্দটি বলেছিলেন, তা অনেকটা ‘ওয়েল্ডার’ এর মতো শোনায়। এই শব্দের বাংলা করলে দাঁড়ায় লোহা ঢালাইয়ের মিস্ত্রী। শেবাগ ‘ওয়েল্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করে টুইট করে পড়েছেন বিপাকে!

ইমরানের টক শোর ভিডিও টুইটারে শেয়ার করে ভারতের সাবেক ওপেনার লিখেন, ‘সঞ্চালক বললেন, আপনার কথা ব্রংক্সের ঢালাইকরের মতো। কিছুদিন আগে জাতিসংঘে জঘন্য বক্তৃতার পর এই লোকটা সম্ভবতা নিজেকে ছোট করার নতুন নতুন পথ বের করছে। ‘ এরপরেই আল জাজিরা ইংলিশের ডিজিটাল সম্পাদক ফারাস গণি সেই টুইটের জবাবে লেখেন, ‘ওয়েল্ডার? শেবাগ, ভিডিওটা আবার শোনো। বারবার শোনো। ‘ জো স্কারবরো পর্যন্ত টুইট করে ট্রল করেছেন। আর পাকিস্তানি নাগরিকরা তো যাচ্ছেতাই ভাষায় শেবাগের মুণ্ডুপাত করে যাচ্ছেন। এত কিছুর পরেও বেচারা শেবাগ তার টুইট মুছে ফেলেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here