ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৪৪৩ জন ছাত্রীকে অতিরিক্ত ভর্তি করা হয়। ভর্তি নীতিমালা লঙ্ঘন করে আসনের অতিরিক্ত এসব শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করায় ফেঁসে গেছেন।

প্রতিষ্ঠানটির তৎকালীন দুই শিক্ষক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা বোর্ড। কিন্তু সে নির্দেশনা মানেসি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান গভর্নিং বডি। তাই, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ফের তাগিদ দিয়েছে ঢাকা বোর্ড। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ কতৃপক্ষকে অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি করার বিষয়ে আগেও সতর্ক করেছিল। কিন্তু ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে পুনরায় ভর্তি নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন শ্রেণিতে আসন সংখ্যার অতিরিক্ত ৪৪৩ জন ছাত্রীকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি বাণিজ্য, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম তদন্তে ৪৪৩ জন অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তির বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অর্থনীতি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক হাসিনা বেগম। আর সে সময়ের দুই শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলেন ড. ফারহানা খানম ও মুস্তারি সুলতানা।

ঢাকা বোর্ড এক সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ৪৪৩ জন ছাত্রীকে অতিরিক্ত ভর্তি করায় দুই শিক্ষক প্রতিনিধি ছিলেন ড. ফারহানা খানম ও মুস্তারি সুলতানার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ঢাকা বোর্ড। গভর্নিং বডিকে এ নির্দেশনা দেয় হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তাই, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষকে তাগিদ দিয়েছে বোর্ড। গত ২০ জানুয়ারি বোর্ড থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাঠানো হয়েছে।

বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যপক ড. মো. হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে, প্রতিষ্ঠানটির সে সময়ের দুই শিক্ষক প্রতিনিধি ড. ফারহানা খানম ও মুস্তারি সুলতানার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে অধ্যক্ষকে। আর একইসাথে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডকে জানাতো বলা হয়েছে অধ্যক্ষকে।

গত ২২ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিনা বেগমকে শোকজ করেছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। শোকজ নোটিসে, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় কেন অধ্যক্ষের বেতন ভাতা বন্ধ করা হবে না, তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here