‘বয়স চোর’ পাকিস্তান, ক্রিকেটারদের আসল বয়স ২৭-২৮

নিজ দেশের বর্তমান ক্রিকেটারদের বয়স চুরি নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আসিফ। কাগজে কলমে বয়স চুরি ও ফিটনেস ঘাটতির কারণে পাকিস্তানি পেসাররা তাদের সামর্থ্যের সবটা নিংড়ে দিতে পারেন না বলে অভিযোগ করেছেন এই ক্রিকেটার।

পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার কামরান আকমলের ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আসিফ বেশকিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বর্তমান জাতীয় দলের বোলারদের অনেকের আসল বয়স নিয়ে লুকোচুরি খেলা হয়েছে। অর্থাৎ তাদের অনেকের আসল বয়স অনেক বেশি।

একসময় পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর। ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিস, শোয়েব আখতার এমনকি মোহাম্মদ আসিফরা ছিলেন ব্যাটসম্যানদের জন্য মূর্তিমান ত্রাস। টেস্ট ক্রিকেটে তাদের সাফল্য ছিল ঈর্ষণীয়। কিন্তু বর্তমান দলটিতে এমন বোলার নেই বললেই চলে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের মতো পেস-বান্ধব পিচেও তাদের সাফল্য নেই। কেন এমনটা হলো, তার জবাবেই ওই দাবি করেন আসিফ।

আকমলের প্রশ্নের জবাবে আসিফ পাকিস্তানের বর্তমান পেসারদের এক টেস্টে একাই ১০ উইকেট না নিতে পারার উদাহরণ দেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, তার সময়ের পেসাররা কীভাবে নিউজিল্যান্ডের মতো পেস-বান্ধব পিচ পেলে খুশি হয়ে উঠতেন। তার মতে, পাকিস্তানের বর্তমান পেসারদের মধ্যে সেই প্যাশন নেই বলেই এই দুরবস্থা। পেসারদের বলের ওপর নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা দেখেন তিনি।

আসিফ বলেন, ‘আমার যতটুকু মনে পড়ছে গত ৫-৬ বছর ধরেই আমাদের (পাকিস্তানের) ফাস্ট বোলাররা এক ম্যাচে ১০ উইকেট নিতে পারছেন না। আগে নিউজিল্যান্ডের মতো পিচ পেলে খুশিতে আমাদের চোখ চকচক করে উঠতো। ফাস্ট বোলাররা তো বলই ছাড়তে চাইতো না। পাঁচ উইকেট না নিতে পারলে তো আমি মাঠই ছাড়তে চাইতাম না। ‘

তিনি আরও বলেন, ‘এই ছেলেদের জ্ঞান নেই। তারা জানে না কীভাবে ব্যাটসম্যানদের ফ্রন্ট ফুটে খেলতে বাধ্য করা থেকে শুরু করতে হয়। তারা জানে না কীভাবে সিঙ্গেল ঠেকাতে হয় এবং উইকেট লক্ষ্য করে বল করতে হয়। তারা যখন উইকেটে রেখে বল করে সেটা লেগ সাইডে চলে যায়। তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ‘

এরপরই পাকিস্তানি পেসারদের নিয়ে বোমা ফাটান আসিফ, ‘তাদের বয়স বেশি। কাগজে হয়তো লেখা ১৭-১৮, কিন্তু আসলে তাদের বয়স ২৭-২৮ বছর। ফলে তারা সাবলীলভাবে ২০-২৫ ওভার বোলিং করতে পারে না। তারা দেহের ভারসাম্য ধরে রাখতে পারে না। তারা এমনকি ৫-৬ স্পেল বোলিং করে মাঠে দাঁড়িয়েও থাকতে পারে না। ‘

পাকিস্তানের বর্তমান পেস বোলিং লাইনআপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২০ বছর বয়সী শাহীন শাহ আফ্রিদি, সঙ্গে তরুণ পেসার নাসিম শাহ এবং মোহাম্মদ আব্বাস। এই বোলিং লাইনআপ নিয়েও খুব বেশি আশান্বিত নন ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষেধাজ্ঞা কাটানো আসিফ। তার মতে, পাকিস্তানের বর্তমান দলের ফাস্ট বোলাররা ঘরোয়া ক্রিকেটে সেভাবে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের আগেই জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে গেছে।

আসিফের মতে, পাকিস্তান দলের পেসারদের মূল লক্ষ্যই এখন দলে জায়গা ধরে রাখা। তিনি বলেন, ‘তারা আসে আর ১০-১২ ওভার বল করে, আর তাতেই দলে তার সুযোগ পাওয়া নিশ্চিত। আমাদের দলে কোয়ালিটি নেই, আছে কোয়ান্টিটি। ১০-১২ জন শীর্ষ ফাস্ট বোলারদের সবারই একই অবস্থা। একজনকে সরিয়ে অন্যজনকে আনা যায়। কিন্তু ফলাফল একই হবে। ‘

কিউইদের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে টসে জেতার সুবিধা আদায় করে নিতে পারেননি পাকিস্তানি বোলাররা। সবুজ উইকেটেও তাই প্রথম ইনিংসেই ৪৩১ রানের পাহাড় গড়ে নিউজিল্যান্ড। এরপর তো ১০১ রানে ম্যাচও জিতে নেয় কিউইরা।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here