বেহাল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় দূর্ভোগ পোহাচ্ছে রোগীরা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বেহালের কারণে প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগীরা। পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে সেবা নিতে আসা রোগীদের। একটি পৌরসভা, ৬টি ইউনিয়ন ও ১২২টি গ্রাম নিয়ে ১৩৫ বর্গ কিলোমিটারের এই উপজেলায় প্রায় দেড় লক্ষ লোকের বসবাস। তাদের সরকারি চিকিৎসা সেবা নেয়ার এই একটিমাত্র বড় প্রতিষ্ঠান।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন বিল্ডিংয়ে পুরুষ রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুরুষ ওয়ার্ডের পাশে রয়েছে চারটি কেবিন যার একটি করোনায় আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ রোগীদের জন্য সেটা বন্ধ থাকে। তবে বাকি তিনটি কেবিনে সাধারণ রোগীরা নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। তবে টাকা দিয়েও সেই সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। কেবিনগুলোর ভেতরে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি কেবিনের টয়লেটে হাই কমোড রয়েছে। এই কমোডগুলো ভাঙাচোরা অবস্থায় আছে। একটি কমোডেরও ফ্লাশ কাজ করে না, তাছাড়া শৌচ কার্য সম্পাদনের জন্য যে পাইপ লাইন রয়েছে তার সবকটা অকেজো। ফলে রোগীদের বিকল্প পথ অবলম্বন করে শৌচ কার্য সম্পন্ন করতে হয় যা রোগীর জন্য যা খুবই কষ্টের।

হাসপাতালের প্রসূতি কেবিনের অবস্থাও একই রকম। আবার মহিলা ও ডারিয়া রোগীদের ওয়ার্ডে থাকা টয়লেটের অবস্থাও শোচনীয়। ভাঙ্গাচোরা দরজা, পানির লাইন নষ্ট নোংরা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে টয়লেটের সকল জায়গা জুড়ে। সব মিলিয়ে সবগুলো টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী। তবে সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থায় আছে ল্যাবের পাশে অবস্থিত টয়লেট। সাধারন কোন রোগী পক্ষে এই টয়লেট ব্যাবহার সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিনের জমা মলমূত্রের গন্ধে একটি সেকেন্ড টেকা মুশকিল সেখানে ল্যাবে পরীক্ষার জন্য প্রস্রাব পায়খানা সংগ্রহ করতে হয় রোগীদের। যা শুধু কষ্টদায়ক নয় অমানবিক। দমবন্ধ করে হলেও রোগীদের এই নোংরা টয়লেটে অবস্থান করেই পরীক্ষার জন্য দেয়া মলমুত্র সংগ্রহ করতে হয়। আরও ভয়ংকর ব্যাপার এই টয়লেটের ঠিক পাঁচ গজ দুরে রান্না হয় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের খাবার।

আশরাফুল আলম নামে কেবিনে চিকিৎসাধীন একজন রোগী জানান তিনি গত তিন দিন যাবত নতুন বিল্ডিং এর ২ নং কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন অথচ তিনদিন আগে কেবিনে এসে পূর্বের রোগীর ফেলে যাওয় আবর্জনা দেখতে পান। যা পরিষ্কার করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিন দিন পার হলেও ঐ আবর্জনা অপসারণ হয়নি। ৮ নং কেবিনে থাকা আতাউর রহমান নামে গ্রামীণ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাও একই অভিযোগ করে বলেন, এক দিন আগে তিনি রোগী নিয়ে কেবিনে উঠেছেন। কেবিনের টয়লেটে কমোড ব্যবহার উপযোগি না থাকায় তিনি নিজেই খানিকটা মেরামত করে ব্যবহার উপযোগী করে নিয়েছেন।

এই বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হালিমা খানম বলেন, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা খারাপ হয়েছে বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। সবচেয়ে কম সময়ের ভেতরে এই সমস্যার সমাধান করে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যবহার উপযোগী করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here