বিদায় নিয়েও স্মরণীয় থেকে গেলেন খন্দকার লেনিন

মানুষের জীবনে বিদায় শব্দটি আপেক্ষিক। হতে পারে ক্ষণস্থায়ী কিংবা চিরস্থায়ী, সবক্ষেত্রেই বিদায় শব্দটি ব্যাবহার করা হয়। আর সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে বিদায় শব্দটি খুব পরিচিত। দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য তারা ছুটে বেড়ান দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

পাবনা থেকে নৈমিত্তিক বিদায় নিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার লেনিন। অবশ্য তার আরেকটি পরিচয় আছে। তিনি আপাদমস্তক অভিনেতা। ঢাবি থেকে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এই পুলিশ কর্মকর্তা যোগ দিবেন তার নতুন কর্মস্থল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে।তবে বিদায়বেলায় তার মূখের উজ্জ্বল হাসি জানান দেয় তার সৃজনশীলতা ও শিল্পভাবনায় ফুটিয়ে তোলা মহৎ সৃষ্টির।


পাবনায় তার শেষ কর্মদিবসে উদ্বোধন করা হয় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণে ফলক ‘চিরঞ্জীবী’। যার পরিকল্পনা করেছেন লেনিন নিজেই। পাবনা ডিবি অফিসের পাশে বৃটিশ আমলে তৈরি জরাজীর্ণ ফোয়ারাকে নব রূপ প্রদান করেছেন তিনি। স্মৃতিফলকের পাশে আঁকা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনের আবক্ষ গ্রাফিতি। শিল্পীর সুনিপুণ তুলিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একাত্তরের ২৫ শে মার্চ, কাল রাত্রিতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনের বীর পুলিশ সদস্যদের পাক হায়নাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের চিত্র।


উদ্যোক্তা খন্দকার লেনিন জানান, বাঙ্গালী জাতির সবচেয়ে অহংকারের জায়গা মহান মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধকে শিল্পে ফুটিয়ে তোলা আমার কাছে একটা ভালোবাসার জায়গা, দূর্বলতার জায়গা। পাবনায় কর্মরত অবস্থায় আমি সূযোগটি পেয়েছি, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্বশস্ত্র প্রতিরোধ, পুলিশ সদস্য হিসেবে আমাদের সবচেয়ে গৌরবের জায়গা রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সেই বীরত্বগাথা ইতিহাস নিয়ে কাজ করার। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই পাবনা জেলা পুলিশের অভিভাবক পুলিশ সুপার মহোদয়কে। তিনি আমাকে এই কাজ করার জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। কাজের মধ্য দিয়ে প্রসংশার দাবি রাখে শিল্পের সুনিপুণ কারিগর, শিল্পী শাহরীন জামান। ধন্যবাদ জানাতে চাই সাকসেস কর্পোরেশনের কর্নধার হাজী তনয়কে, যিনি এই মহৎ উদ্যোগে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন।

খন্দকার লেনিন চিরঞ্জীবী চত্বরে নিজ হাতে লিখে একটি কবিতা বাধাই দিয়েছেন।যা চত্বরের শিল্পমানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here