বাবা তুমিই আমার গল্পের সেরা সুপার হিরো

মানুষের জীবনে চলার পথে অনেক গল্প থাকে। আবার প্রতিটি গল্পের একজন হিরো থাকে। ঠিক তেমনিই আমার জীবনের গল্পের সেরা সুপার হিরো হলো আমার বাবা। ছোটবেলা থেকেই সকল হিরো, সুপার হিরোকে পাশ কাটিয়ে আমি শুধু আমার বাবার মতোই হতে চেয়েছি।

এই সুন্দর পৃথিবীতে মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো বাবা। যাদের বাবা নেই তারাই বোঝে বাবা হারানোর ব্যাথা। বাবা সাধারণ কেউ না বাবা সুপারম্যান কিংবা ব্যাটম্যান এর চেয়েও অসাধারণ কেউ।

রোদ কিংবা বৃষ্টি থেকে বাঁচাতে মাথার উপর যে কেউই ছাতা হতে পারে ,কিন্তু বট বৃক্ষের মত শীতল ছায়া যে কেউ দিতে পারে না। বটবৃক্ষ হয়ে মাথার উপর থাকে “বাবা”। যতক্ষণ থাকে, ততক্ষণ বুঝা যায় না তার মর্ম!! মাথার উপর থেকে ছায়া সরে গেলেই টের পাওয়া যায়, কঠিন এই জীবনটা কেউ একজন অনেক সহজ করে দিয়েছিল। জীবন আসলে এতটা সহজ না জীবন খুব কঠিন।

আমার বাবা ছিলেন আমার স্বপ্ন দেখার আয়না। সে তার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমার স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য সারাজীবন চেষ্টা করে গিয়েছিলো। তিনি প্রায়ই বলতেন তোমার এত দুঃখ কেন! আমি তো আছি তোমার পাশে। চিন্তার কোন কারন নেই। তোমার যা চাই সব আমার কাছে বলবা। হাজারো আবদার ও বায়না ধরে বসে থাকতাম তার কাছে।তার কাছে কখনো না শব্দ টি শুনিনি। শত কষ্ট হলেও সকল বায়না পূরন করা দিতেন।

আমি যখন ছাত্র হোস্টেলে থাকতাম তখন মাসের শেষের যখন টাকার প্রয়োজন হত তার বাবা নিজ থেকেই টাকা দিয়ে বলতো আর লাগলে বলিয়ো। নিজের শত কষ্টের মধ্যে থেকে ও বুঝতে দিত না। আমি আমার বাবার কাছে যখন যা চেয়েছি তা ই পেয়েছে।

একবার রমজানের ঈদের সময় বাবা সকলের জন্য ঈদের পোশাক নিয়েছেন কিন্তু নিজের জন্য নেয় নি। সেই বার আমি বাবাকে বললাম, বাবা আপনি একটি পাঞ্জাবি নেন।তখন তিনি বলেন, আমি একদিনের জন্য পাঞ্জাবি কিনে কি করবো? আমি তো ঘুরতেও যাই না। তোমাদের হলেই আমি খুশি।

মনে পড়ে বাবা, আমি যখন ছোট তখন তোমার সাথে হাত ধরে দোকানে গিয়ে যা চেতাম তুমি তা ই কিনে দিতে। ছোটবেলায় আমার সব আবদারগুলো তুমি পূরণ করতে দিতে। রাতে বাড়ি ফিরে আমি যখন ঘুমিয়ে পড়তাম আমার বিছানার পাশে আমার পছন্দের জিনিসগুলো কিনে এনে রাখতে।

আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভালো মানুষ ছিলেন আমার বাবা। সৎ এবং সত্যবান, চমৎকার এবং চরিত্রবান। আমি গর্বিত তার মতো হবার চেষ্টা করতে পেরে, আমি গর্বিত তার সন্তান হতে পেরে। সম্ভবত বাবাকে নিয়ে করা এ গর্বটা সব সন্তানেরই অধিকার।

বাবা সত্যি কথা কি জানো, তোমাকে ছাড়া আমার বেঁচে থাকাটা শুধুই সান্ত্বনার। আমার স্বপ্নগুলো আর স্বপ্ন নেই, ফিকে হয়েছে বহু আগেই। আমার স্বপ্ন দেখার বয়স না পেরোতেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে তোমার স্মৃতিগুলো আমাকে একটি দিনের জন্যও স্বাভাবিক থাকতে দেয়নি। আমি আর মনে হয় কখনো স্বাভাবিক হতে পারব না বাবা তোমাকে ছাড়া।

এই পৃথিবীতে আমার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন ছিল আমার বাবা। গত ৩০ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাবা রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে যান এবং পাঁচ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৯:৪৫ মিঃ এই পৃথিবীর ও সন্তানদের ময়া ত্যাগ পরকালে পাড়ি জমান।

বাবাদের আসলে মৃত্যু হয় না। তারা সব সময় মহান হয়ে থাকে। তারা সারা জীবন বেঁচে থাকেন তাদের রেখে যাওয়া আদর্শে, মহৎ কাজে, সন্তানের মনের মণিকোঠায়।

শুধু বাবা দিবসে না, বছরের প্রতি দিন ই পৃথিবীর সকল বাবার জন্য দোয়া করি, যাদের বাবা বেঁচে আছে তার যেন সুস্বাস্থ্য নিয়ে এই সুন্দর পৃথিবীতে আরো অনেক দিন বেঁচে থাকুক। আর আমার মত যাদের বাবা নেই সেই বাবাদের কে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা যেন জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here