বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) সেমিস্টার পরীক্ষার ফর্মফিলাপ শিক্ষার্থীদের জন্য যেন এক চরম ভোগান্তির নাম। একটি লম্বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পন্ন করতে হয় সেমিস্টার পরিক্ষার ফর্মফিলাপের যাবতীয় কার্যপ্রনালী। আর এই কার্যপ্রনালী সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের যেমন সময় নষ্ট হয় তেমনি দিতে হয় দৈহিক শ্রম।

জানা যায়, ফর্মফিলাপের যাবতীয় কার্যপ্রনালী সম্পন্ন করতে প্রতিজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে অনুষদের ডিন অফিস বা উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা ভবন থেকে ফরম সংগ্রহ করতে হয়। তারপর সেই ফরম পূরণ করে কোষাধ্যক্ষ অফিস থেকে টাকা জমা দেয়ার রশিদ নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসারের স্বাক্ষর নিতে হয়। তারপর সেই রশিদ ও নির্ধারিত টাকা জমা দিতে হয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত পূবালী ব্যাংকে। তারপর আবার কোষাধ্যক্ষ ভবন থেকে কোষাধ্যক্ষের স্বাক্ষর নিতে হয়। এরপর ফরম ও টাকা জমার রশিদ নিয়ে জমা দিতে হয় নিজ হলের প্রভোস্ট অফিসে। হল অফিস থেকে পরদিন প্রভোস্টের স্বাক্ষরকৃত ফরম সংগ্রহ কওে তা স্ব স্ব ডিন অফিস বা ডিপার্টমেন্টে জমা দিতে হয়। এত বড় একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেষ হয় সেমিস্টার ফাইনালের ফর্মফিলাপ। আর এই লম্বা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে শিক্ষার্থীদের পরতে হয় ভোগান্তিতে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফরম ফিলাপের কার্যক্রম শেষ করার সময় (দুই থেকে তিন দিন) কম থাকায় ফরম ফিলাপ চলাকালীন সময়ে ক্লাস বন্ধ না থাকায় আমাদের দুপুরে খাবার বিরতিতে এ কাজগুলো করতে হয়। সময় কম থাকায় এক সাথে সকল শিক্ষার্থী কোষাধ্যক্ষ ভবন ও পূবালী ব্যাংকে ভীড় জমায়। এতে আমাদেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। এমনকি আমাদের অনেক সময় ক্লাস মিস করে ফরম ফিলাপের কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তাই ভোগান্তি কমাতে অনলাইন ভিত্তিক ফর্মফিলাপ বাকৃবিতে সেমিস্টার পরীক্ষার ফর্মফিলাপ এক ভোগান্তির নামপ্রক্রিয়া চালু করার দাবি শিক্ষার্থীদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ব বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান কামু বলেন, মাত্র ৬-৭ হাজার শিক্ষার্থীকে বাকৃবি প্রশাসন কি অটোমেশনের আওতাভুক্ত করতে পারবেনা? সারাদেশ যেখানে ডিজিটালাইজেশন হচ্ছে সেখানে শুধু প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবে আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে। আগামী সেমিস্টারের মধ্যেই সব কিছুতে অটোমেশন করতে হবে নয়তো ছাত্রছাত্রীরা এর উপযুক্ত জবাব দিবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, ছাত্রদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়টা আমাদের মাথায় আছে। ভবিষ্যতে যাতে ভোগান্তি না হয় সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নেবো। আর অনলাইন ভিত্তিক ফরম ফিলাপ প্রক্রিয়া চালু করা যায় কিনা সে বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here