বরিশালে ট্রিপল মার্ডার: কবিরাজ গ্রেফতার

বরিশালের বানারীপাড়ায় দুবাই প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাড়ি থেকে তার বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগমসহ তার দুই স্বজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এছাড়া আরো একজনের লাশ বাড়ির পিছনের পুকুর থেকে হাত-পা বাধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একজন কবিরাজকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অপরদিকে দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে ট্রিপল মার্ডারের শরীরে বড় ধরনের কোনো ক্ষত কিংবা চিহ্ন খুঁজে পায়নি পুলিশ। ঘাতকরা এতটাই দৃঢ়, যে কারণে নিহতের শরীরে কোনো বড় ধরনের ক্ষত খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তবে ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটনের জন্য পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই ও সিআইডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। তারা অচিরেই এ বিষয়টির রহস্য উদ্ধার করতে পারবেন বলে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

জানা গেছে, শনিবার সকালে খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শিশির কুমার পাল ও ওসি (তদন্ত) মো. জাফর আহম্মদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের দুবাই প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের বাসভবনের বেলকুনির মেঝে থেকে তার বৃদ্ধা মা মরিয়ম বেগম (৭৫) ও পাশের রুম থেকে বোন জামাতা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শফিকুল আলম (৬০) এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই পারিবারিকভাবে বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ভাসমান খালাতো ভাই ইউসুফ হোসেনের (৩২) লাশ উদ্ধার করে।

পরে খবর পেয়ে বরিশালের অতিরিক্ত ডিআইজি একেএম এহসান উল্লাহ, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম (বিপিএম বার), পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত মো. রকিব উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার সাঈদসহ পিবিআই ও সিআইডি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় তারা ওই ভবনের ভেতর থেকে দরজা-জানালা বন্ধ থাকার কথা জানতে পেরেছেন। তবে আব্দুর রবের স্ত্রী মিশু ও তার ভাতিজি আছিয়া খাতুন ছাদে যাওয়ার দরজা খোলা পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন। তাদের ধারণা ছাদের পাশেই একটি আম গাছ রয়েছে। দুর্বৃত্বরা ওই আম গাছ থেকে ভবনের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে।

এ বিষয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম (বিপিএম বার) বলেন, আমরা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছি। এ ছাড়া যারা নিহত হয়েছেন, তাদের শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে তাদের ফরেনসিক রিপোর্ট ছাড়া এখনই কোনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে হত্যাকারীরা পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনাটি ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন। এ দিকে ওই দিন দুপুরে পুলিশ উদ্ধারকৃত তিনজনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। একই দিন বিকালে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বিল্ডিংয়ের নির্মাণ শ্রমিক জাকির হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে।

পুলিশের কাছে আটক হওয়া জাকির হোসেন এর আগে আব্দুর রবের বাসভবনে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেছেন এবং তিনি প্রায়ই ওই বাড়িতে ঝাড়ফুঁক দিতে আসতেন বলে ওসি শিশির কুমার জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি শিশির কুমার যুগান্তরকে বলেন, একজন বৃদ্ধা মাসহ তিন জনকে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আমরা পুরো ঘটনাটি উদ্ধারের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়াও ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলেও তিনি জানান।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here