বরিশালে এক টাকার বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং

করোনাকালের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে তিন বন্ধু। ভাবলেন, কিছু একটা করা দরকার। এই ভেবে চালু করলেন কোচিং সেন্টার। তবে পয়সা কামাতে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের উপকারের জন্য। বরিশালের গৌরনদীতে গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য এক টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন এই তিন বন্ধু।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে সুজন সরদার নিশাত ও আবিদ হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাসান হাওলাদার রাব্বী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। শুক্রবার উপজেলার বার্থী তারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে কোচিংয়ের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

সুজন সরদার নিশাত বলেন, ‘করোনা মহামারীর কারণে এলাকার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর পক্ষে দূরে গিয়ে কোচিং করা সম্ভব নয়। তাদের কথা চিন্তা করে তারা তিন বন্ধু প্রতীকী এক টাকার বিনিময়ে এই কোচিং করানোর উদ্যোগ নিয়েছি।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদশী ঈশ্বরচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক কাজী আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন গাউছিয়া আবেদীয়া সূন্নীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম আব্দুর রব।

এমন উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে কোচিং সেন্টারের পরিচালক আবিদ হাসান বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। ইতিমধ্যে ৬০ জনের মত শিক্ষার্থী আমাদের এখানে ভর্তি হয়েছে। আমাদের এই কোচিং এর মাধ্যমে বহু গরিব শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে মনে করছি।’

কোচিং সেন্টারের আরেক পরিচালক হাসান হাওলাদার রাব্বী বলেন, ‘এখানে বিনামূ্ল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং বহু শিক্ষার্থীর উপকারে আসবে। আমাদের দায়িত্ববোধ থেকে আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

কোচিংয়ে ভর্তি হতে আসা মাহামুদুন্নবী সজল বলেন, ‘করোনার কারণে বন্ধ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তো আর থেমে থাকবে না। তাই এখানে এসেছি। প্রথমে জানতাম না যে এক টাকায় এখানে ভর্তি হতে পারব। বিষয়টি অবিশ্বাস্য হলেও এখানে শেষ পর্যন্ত এক টাকাতেই ভর্তি হয়েছি।’বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু সিদ্দিক মোল্লা বলেন, ‘এক টাকায় কোচিং চালু হচ্ছে শুনে কোচিং সেন্টারে গিয়েছিলাম। শনিবার সেখানে ভর্তি হয়েছি। ভর্তি কোচিং সবই বন্ধ রয়েছে। সেখানে এখানে সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এক টাকায় কোচিং চালু করায় আমরা বেশ উপকৃত হব।’

এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন স্থানীয়রা। সাংবাদিক আনিসুর রহমান খান স্বপন বলেন, ‘তিন যুবক খুব ভালো কাজ করেছেন। এতে করে অস্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here