ফ্রিতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হবার সুযোগ

বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। যেখানে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন নোবেল-প্রাপক ব্যক্তি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, অলিম্পিয়ান, রয়েছেন পৃথিবী কাঁপানো বুদ্ধিজীবী, ধারণার শিকড় নাড়িয়ে দেওয়া তত্ত্ববিদরা। এমন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার ইচ্ছা হয়তো সকলেরই থাকে। তবে পরিস্থিতি আর অর্থাভাবে তা হয়তো সম্ভব হয়ে ওঠে না। সম্প্রতি একগুচ্ছ অনলাইন কোর্স নিয়ে হাজির হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। চাইলেই পড়তে পারবেন যে কেউ। এর জন্য নির্ধারিত কোনো ডিগ্রী এমনকি অর্থও লাগবে না।

বিভিন্ন বিষয়ের ৬৪টি পাঠক্রম অনলাইনে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে হার্ভার্ড কর্তৃপক্ষ। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাড়িতে বসে যে কেউ পেতে পারেন এই সব পাঠক্রম। কেবল এই সংক্রান্ত সার্টিফিকেট পেতে গেলে খরচ করতে হবে সামান্য পরিমাণ অর্থ।

হার্ভার্ডের এই অনলাইন কোর্সগুলির মধ্যে রয়েছে আইটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস, ডেটা সায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড মেডিসিন এবং হিউম্যানিটিজ, কম্পিউটার সায়েন্স, সোশ্যাল সায়েন্স সংক্রান্ত বিবিধ বিষয়। পাঠক্রমগুলির দৈর্ঘ্য ৪ থেকে ১৫ সপ্তাহের আশপাশে। বলাই বাহুল্য, এই কোর্সগুলির রূপরেখা নির্ণয় করেছেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা শিক্ষকরাই।

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক পাঠক্রমগুলিতে টুডি এবং থ্রিডি গেম ডেভেলপমেন্ট থেকে বিভিন্ন ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ-এর প্রযুক্তি শেখার বন্দোবস্ত রয়েছে। রয়েছে সিএস-৫০ বিষয়ে বিবিধ পাঠক্রম। বিজনেস বিভাগে ইমার্জিং ইকনমিকস, কন্ট্র্যাক্ট ল এবং অ্যাকাউন্টিং ও ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট বিষয়ে তিনটি প্রাথমিক কোর্স রয়েছে। আর্টিফিসিয়াল ইন্টালিজেন্স ও মেশিন লার্নিং-এর এই যুগে ১৪টি অনলাইন পাঠক্রম হাজির করেছে হার্ভার্ড ডেটা সায়েন্স বিভাগে।

করোনাভাইরাস অতিমারির প্রেক্ষিতে ইবোলা বা অন্য মহামারিগুলি সংক্রান্ত পাঠক্রম পেশ করছে হার্ভার্ড তার হেলথ অ্যান্ড মেডিসিন বিভাগে। রয়েছে ম্যালেরিয়া দূরীকরণের পাঠক্রমও। স্নায়ুবিজ্ঞানের প্রাথমিক পাঠও পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। বিজ্ঞান ও রান্নাবান্নার সম্পর্ক নিয়েও রয়েছে ৬ সপ্তাহের পাঠক্রম।

তবে সব থেকে আগ্রহব্যঞ্জক বিষয় বোধ হয় রয়েছে হিউম্যানিটিজ বিভাগে। পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতা ও ধর্মের উপরে রয়েছে এক ঝাঁক কোর্স। শাস্ত্র-ভিত্তিক হিন্দু ধর্ম, খ্রিস্ট ধর্মের রূপরেখা, এমনকি শিখ ধর্মের উপরেও রয়েছে পাঠক্রম। এক একটির দৈর্ঘ ৪ সপ্তাহ। চিন ও কমিউনিজম এবং আধুনিক চিন-তাইওয়ান, হংকং সম্পর্কে বিশদ জানতে চাইলেও, তার বন্দোবস্ত করেছে ১৬৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়। বিশদে রয়েছে শেক্সপিয়ার পাঠের আয়োজনও। এখানেই শেষ নয়, বিজ্ঞান ও যুক্তির চেনা জগৎ পেরিয়ে কেউ যদি হাঁটতে চান গুপ্তবিদ্যার জগতে, তার জন্য রয়েছে দৈববাণী, ভবিষ্যদ্বচন ও গূঢ় সংকেতের ইতিবৃত্ত সংক্রান্ত পাঠক্রমও। এমনকি প্রাচীন মিশর, পিরামিড ও হায়ারোগ্লিফিক লিপি সংক্রান্ত পাঠক্রমও পেতে পারেন একেবারেই বিনা খরচে।

প্রাচীন ভারত কলাবিদ্যাকে ৬৪টি ধারায় ভাগ করেছিল। এই মুহূর্তে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ও ৬৪টি অনলাইন পাঠক্রমকে বিনা খরচায় পেশ করছে। প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞানচর্চার ইতিহাস বলে, এই ৬৪টি কলা এক ‘সমগ্র’-কে জানায়। হার্ভার্ডও কি তেমনই কিছু ভেবেছে তার ৬৪টি বিদ্যার বিষয়ে? এই চর্চা হয়তো অতিমারি-উত্তীর্ণ বিশ্বকে নতুন করে বাঁচতে শেখাবে, নতুন করে ভাবতে শেখাবে। আপাতত লকডাউনের দিশাহীনতাকে উপেক্ষা করে ডুব দেওয়া যেতেই পারে এই সব পাঠক্রমের গভীরে।

এই মুহূর্তে অনলাইন পাঠক্রম পেশ করছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও বাণিজ্যিক সংস্থাও। লকডাউন বিশ্বে অনলাইন পড়াশোনাই হয়ে উঠছে বিদ্যার্জনের সব থেকে জনপ্রিয় উপায়। সেই তালিকায় সংযোজিত হল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নামও।

সূত্র-আনন্দবাজার

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here