ফেসবুকে আর বিজ্ঞাপন দেবে না ইউনিলিভার, কোকাকোলাসহ যেসব প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন ঘিরে এখন পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ইউনিলিভার, কোকাকোলার মতো লাভজনক ব্র্যান্ড অন্তত চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে আর কোন বিজ্ঞাপন দেবে না ফেসবুকে।

এক নজরে দেখে নিন কোন কোন প্রতিষ্ঠান ফেসবুকে বিজ্ঞাপন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

কানাডিয়ান পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আর্কটেরিক্স ফেসবুকে বিজ্ঞাপন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক টুইট বার্তায় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অন্তত জুলাই পর্যন্ত ফেসবুকে কোন বিজ্ঞাপন দেবে না আর্কটেরিক্স।

আইসক্রিম কোম্পানি বেন অ্যান্ড জেরি’স জানায়, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের পক্ষে তারা। কোম্পানিটি জানায়, লাভজনক অবস্থান তৈরির জন্য বর্ণবাদকে সমর্থন করে এমন কোন কার্যক্রমে ফেসবুকের অংশ নেয়া উচিত নয়। পহেলা জুলাই থেকে ফেসবুক আর ইন্সট্রাগ্রামে সব ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধের কথা জানায় বেন এন্ড জেরিস।

মার্কিন খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সান্তোরি বেভারেজ অ্যান্ড ফুড লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান বিম সান্তোরি জুলাই থেকে ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জনপ্রিয় কোমল পানীয় ব্র্যান্ড কোকাকোলা অন্তত ৩০ দিন কোন বিজ্ঞাপন দেবে না ফেসবুকে। এক বার্তায় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অবশ্যই বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে স্বচ্ছ ভূমিকা রাখতে হবে।

পাসওয়ার্ড ম্যানেজার অ্যাপ কোম্পানি ড্যাশলেন নিজস্ব ওয়েবসাইটে জানায়, জুলাইয়ের পুরোটাই ফেসবুকে কোন বিজ্ঞাপন দেবে না তারা। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে, ফেসবুক শুধু সেটাই বলে, যেটা দিয়ে অর্থ আয় হবে।

মার্কিন খুচরা পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এডি বায়ারও ফেসবুকে বিজ্ঞাপন না দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় টুইটারে। জুলাইয়ের পুরোটাই ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামে কোন বিজ্ঞাপন দেবে না এডি বায়ার।

মার্কিন পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এইলেন ফিশার জানায়, জুলাই থেকে ফেসবুকে তাদের বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ। দুই কোম্পানির আয়ের পথ সুগম হবে, ফেসবুক এমন কোন পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করে এইলেন ফিশার কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি ফেসবুককে সব কমিউনিটির জন্য নিরাপদ প্লাটফর্ম তৈরির আহ্বান জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

জনপ্রিয় চকোলেট ব্র্যান্ড হার্শিস, জুলাই থেকে বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিচ্ছে ফেসবুকে। ইন্সটাগ্রামেও আপাতত বিজ্ঞাপন দেবে না হার্শিস। কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন করতে যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না ফেসবুক।

জনপ্রিয় অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠান হোন্ডাও বয়কট করেছে ফেসবুককে। জাপানি প্রতিষ্ঠানটির মার্কিন শাখা কর্তৃপক্ষ জানায়, আমেরিকা হোন্ডা জুলাইতে ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ রাখবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে সামিল হতে চায় হোন্ডা। মানুষের সম্মানই মুখ্য বলেও জানায় হোন্ডা কর্তৃপক্ষ।

বিশ্বের বৃহত্তম ব্যাকপ্যাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান জ্যানস্পোর্টও জুলাইতে কোন বিজ্ঞাপন দেবে না ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামে। ফেসবুককে বর্ণবাদ, সহিংস সব বিষয়ের ক্ষেত্রে আরো শক্তিশালী নীতি গ্রহণের আহ্বান জানায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি।

মার্কিন ডেনিম পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লেভি স্ট্রস অ্যান্ড কোম্পানিও বয়কট করেছে ফেসবুককে। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ণবাদ নিয়ে ভুল আর বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ এ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। জুলাইয়ের পুরোটাই ফেসবুকে কোন বিজ্ঞাপন দেবে না লেভি স্ট্রস অ্যান্ড কোম্পানি।

প্রথম হলিউড স্টুডিও ম্যাগনোলিয়া পিকচারসও বয়কট করেছে ফেসবুককে। জুলাইতে ফেসবুক আর ইন্সটাগ্রামে কোন বিজ্ঞাপন দেবে না প্রতিষ্ঠানটি।

আমেরিকান গার্মেন্টস পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান পাতাগোনিয়াও ফেসবুককে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত আছেন তারা।

গার্মেন্টস পোশাক প্রস্তুতকারক বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান দ্যা নর্থ ফেসও ফেসবুক-ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপন না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যতদিন বর্ণবাদ, সহিংসতামূলক কন্টেন্টের বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোন নীতিমালা ফেসবুক প্রণয়ন করবে না, ততোদিন কোন বিজ্ঞাপন দেয়া হবে না।

জনপ্রিয় কনজ্যুমার ব্র্যান্ড ইউনিলিভার চলতি বছর কোন বিজ্ঞাপন দেবে না ফেসবুক-ইন্সটাগ্রাম এমনকি টুইটারেও। এক বিবৃতিতে ইউনিলিভার জানায়, এমন সময় বিজ্ঞাপন দেয়া জনস্বার্থে কোন কাজে আসবে না। ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নিশ্চিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিলিভার। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে টুইটার।

মার্কিন টেলিকম জায়ান্ট ভেরিজন ফেসবুক থেকে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিচ্ছে। বর্ণবাদ রিবোধী আন্দোলন সমর্থনে ইতিবাচক কোন সিদ্ধান্তে না আসলে বন্ধ থাকবে বিজ্ঞাপন।

জনপ্রিয় কফি ব্র্যান্ড স্টারবাকস্ সব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয়ার কথা জানিয়েছে। অথচ ২০১৯ সালে ফেসবুকের ষষ্ঠ বৃহত্তম বিজ্ঞাপন দাতা প্রতিষ্ঠান ছিলো স্টারবাকস্। গেল বছর সাড়ে ৯ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন দিয়েছে তারা। তবে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সাথে এক যোগে বিজ্ঞাপন বয়কট করছে কি না এ বিষয়ে কিছু জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।

বৃহত্তম অনেক প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেয়ায় আর নেতিবাচক প্রচারণা তৈরি হওয়ায় এখন পর্যন্ত ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের ৭০০ কোটি ডলার লোকসান হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here