পিতা মুজিব মানেই মুক্তি

আমরা যেই মুক্ত আকাশের নিচে বসবাস করি সেই আকাশটা শেখ মুজিবের। মুজিব আমাদের পিতা। মুজিব আমাদের নেতা। মুজিব আমাদের আদর্শ। মুজিব আমাদের চেতনা। শতবর্ষের শেখ মুজিব এখনো বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণা। হাজার বছরের গোলামী থেকে মুজিব আমাদের মুক্তি দিয়েছেন। টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিব এখনো আমাদের শক্তি জোগায়। লড়ে যেতে হবে স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মাণের যুদ্ধে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। শেখ লুৎফর রহমান ও মোসাম্মৎ সাহারা খাতুনের চার কন্যা ও দুই পুত্রের মধ্যে তৃতীয় সন্তান শেখ মুজিব। বাবা-মা ডাকতেন খোকা বলে। খোকার শৈশবকাল কাটে টুঙ্গি-পাড়ায়।

৭ বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাইমারি স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। নয় বছর বয়সে গোপালগঞ্জ পাবলিক স্কুলে তৃতীয় শ্রেণীতে ভর্তি হন। পরে তিনি স্থানীয় মিশনারি স্কুলে ভর্তি হন। শৈশবে শেখ মুজিব ছিলেন অত্যন্ত চৌকস এবং মেধাবী।

১৪ বছর বয়সে বেরিবেরি রোগে আক্রান্ত হলে তার একটি চোখ কলকাতায় অপারেশন করা হয়। চক্ষুরোগের কারণে তার লেখাপড়ার সাময়িক বিরতি ঘটে। চক্ষুরোগে চার বছর শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার পর শেখ মুজিব পুনরায় স্কুলে ভর্তি হন।

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গোপালগঞ্জ মিশনারি স্কুল পরিদর্শনে এলে শেখ মুজিব স্কুলের ছাত্রাবাসের নানা সমস্যার কথাসহ বিভিন্ন দাবি স্কুল ছাত্রদের পক্ষ থেকে তুলে ধরেন। শেখ মুজিব ছোট বেলা থেকেই ছিলেন মানবিক এবং অধিকার আদায়ের অগ্রসৈনিক।

১৮ বছর বয়সে শেখ মুজিব ও মহীয়সী নারী বেগম ফজিলাতুননেছার আনুষ্ঠানিক বিয়ে সম্পন্ন হয়। খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে গড়ে উঠার প্রতিটি ধাপে ধাপে রয়েছে মহীয়সী নারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিবের অক্লান্ত পরিশ্রম, আর হার না মানার লড়াকু গল্প। তারা দুই কন্যা শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল এর জনক-জননী।

১৯৪২ এসএসসি পাস করে কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে মানবিক বিভাগে ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসে ভর্তি হন এবং বেকার হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা হয়। কলকাতায় থাকা অবস্থায় সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইসলামিয়া কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হলে কলকাতায় দাঙ্গা প্রতিরোধ তৎপরতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন আইন পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মেনে নেবে বলে ঘোষণা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বঙ্গবন্ধু এর প্রতিবাদ জানান। খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। শেখ মুজিব এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য কর্মতৎপরতা শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্র ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করেন।

২ মার্চ ভাষা প্রসঙ্গে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে সংগঠিত করার লক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। সংগ্রাম পরিষদ বাংলা ভাষা নিয়ে মুসলিম লীগের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ১১ মার্চ সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করে। ১১ মার্চ বাংলা ভাষার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সাথে সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভরত অবস্থায় গ্রেফতার হন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারে সারাদেশে ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। সরকার ছাত্রদের আন্দোলনের চাপে বঙ্গবন্ধুসহ গ্রেফতারকৃত ছাত্র নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধু ১৫ মার্চ মুক্তি লাভ করেন।

বঙ্গবন্ধু মুক্তি লাভের পর ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার সভার আয়োজন করা হয়। সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। ওই সভায় পুলিশ হামলা চালায়। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সভা থেকে বঙ্গবন্ধু ১৭ মার্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। ১১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে কর্ডন প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করার জন্য তাকে গ্রেফতার করা হয়।

১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্যান্য দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫৪ সালের ১০ মার্চ সাধারণ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি আসনের মধ্যে ২২৩ টিতে বিজয় অর্জন করে। যার মধ্যে ১৪৩টি আসন পায় আওয়ামী মুসলিম লীগ। শেখ মুজিব গোপালগঞ্জ আসনে বিজয় লাভ করেন। ১৫ মে তাকে কৃষি ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ২৯ মে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট ভেঙে দেয়। ৩০ মে করাচি থেকে ঢাকা ফেরার পর বিমান বন্দর থেকেই তাকে আটক করা হয়। ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি লাভ করেন তিনি। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন শেখ মুজিব আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত হন। ১৭ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ পল্টন ময়দানে এক সম্মেলনে ২১ দফা দাবি পেশ করে। যার মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর আওয়ামী মুসলিম লীগের বিশেষ অধিবেশনে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়। শেখ মুজিব পুনরায় দলের মহাসচিব নির্বাচিত হন। ৩ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের বৈঠকে দল থেকে খসড়া সংবিধানে স্বায়ত্ত¡শাসন অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব রাখা হয়, যা তিনিই সরকারের কাছে পেশ করেন। ১৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিব কোয়ালিশন সরকারে যোগ দিয়ে একযোগে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতিরোধ এবং গ্রামীণ সহায়তা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি দলের জন্য সম্পূর্ণ সময় ব্যয় করার তাগিদে ১৯৫৭ সালে ৩০ মে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন, ৭ আগস্ট সরকারি সফরে চীন গমন করেন। ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি মেজর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা এবং সেনাবাহিনী প্রধান আইয়ুব খান দেশে সামরিক আইন জারি করে সব রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। ওই বছরের ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে আবারো আটক করা হয়।

তিনি ১৯৬১ সালে জেল থেকে ছাড়া পান। এবার তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জননিরাপত্তা আইনে তাকে আবারো আটক করা হয়। ২ জুনের চার বছরব্যাপী মার্শাল ল’ অপসারণের পর একই মাসের ১৮ তারিখে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ২৫ জুন তিনি অন্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মিলে আইয়ুব খান আরোপিত বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুর বিরুদ্ধে সংগ্রামে নেমে পড়েন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি লাহোরে গিয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে মিলে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গড়ে তোলেন। অক্টোবর মাস জুড়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে মিলে যুক্তফ্রন্টের সমর্থন আদায়ে তিনি বাংলার বিভিন্ন স্থান সফর করেন।

১৯৬৪ সালের ১১ মার্চ একটি সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, রাজনীতির নামে মৌলিক গণতন্ত্র প্রচলন (বেসিক ডেমোক্রেসি) এবং পাকিস্তানের কাঠামোতে এক-ইউনিট পদ্ধতির বিরোধী নেতাদের মধ্যে অগ্রগামী ছিলেন শেখ মুজিব। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে মুজিব আইয়ুব-বিরোধী সর্বদলীয় প্রার্থী ফাতিমা জিন্নাহকে সমর্থন করেন।

১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনেই শেখ মুজিব ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যা ছিল কার্যত পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের পরিপূর্ণ রূপরেখা। এই দাবি সম্মেলনের উদ্যোক্তারা প্রত্যাখান করেন এবং শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে চিহ্নিত করেন। ১৯৬৬ সালের ১ মার্চ শেখ মুজিব আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর তিনি ছয় দফার পক্ষে সমর্থন আদায়ে দেশব্যাপী প্রচার কার্য পরিচালনা করেন। এই সময় তিনি বেশ কয়েকবার কারাবন্দী হন।

১৯৬৮ সালের প্রথমদিকে পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিব এবং আরো ৩৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে পরিচিত, এতে শেখ মুজিবকে পাকিস্তান বিভক্তিকরণের ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯ জুন ঢাকা সেনানিবাসে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অভিযুক্ত আসামীদের বিচারকার্য শুরু হয়।

বিচারকার্য চলাকালে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাদের ১১ দফা দাবি পেশ করে যার মধ্যে শেখ মুজিবের ছয় দফা অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে গণ আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। এ আন্দোলনের পর মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবসহ অভিযুক্ত সবাইকে মুক্তি দেয়া হয়।

৬ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু পুনরায় আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচিত হন। ১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ কার্যকরী পরিষদের সভায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ৭ জুন রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বঙ্গবন্ধু ৬ দফার প্রসঙ্গ আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ১৭ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু তার দলের নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ প্রতীক পছন্দ করেন। ঢাকার ধোলাইখালে প্রথম নির্বাচনী জনসভার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। ২৮ অক্টোবর তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বেতার-টিভি ভাষণে ৬ দফা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানান। ১২ নভেম্বরের গোর্কিতে উপকূলীয় এলাকার ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটলে বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচারণা বাতিল করে দুর্গত এলাকায় চলে যান এবং আর্ত-মানবতার প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের উদাসীনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি গোর্কি উপদ্রুত মানুষের ত্রাণের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ৭ ডিসেম্বরে সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আওয়ামী লীগ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০৫টি আসন লাভ করে।

এরপর সামনে আসে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সেদিন রেসকোর্স ময়দানে লাখ লাখ মানুষের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার জন্য বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়েছিলেন। ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে, আক্রমণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা রাইফেল সদর দফতর ও রাজারবাগ পুলিশ হেড কোয়ার্টার। বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাত ১২টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।

নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। কিন্তু আমাদের স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ আসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি যেদিন স্বাধীন বাংলার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্বদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনায় মনোযোগ দেন। বাঙালি জাতির ভাগ্যোন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যান। দুঃখের বিষয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নিহত হন সপরিবারে। আল্লাহর অশেষ রহমতে দেশের বাহিরে থাকায় বেঁচে যান জাতির পিতার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা। এখন আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালিত বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া আমানত জাতির পিতার কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।

শুভ জন্মদিন আমাদের আদর্শিক পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পিতা, তোমার কন্যার হাতে তোমার স্বপ্নের বাংলাদেশ। পিতা, তোমার কন্যা আজ আমাদের দারিদ্রতা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। ছিন্নমূল মানুষের জন্য ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। আমাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করেছেন। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাকে বিশ্বমানের করে গড়ে তুলেছেন। পিতা, তোমার কন্যা নেতৃত্বে দেশ এখন বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। পিতা, তুমি শুধু শতবছর নও আরো হাজার বছর বেঁচে থাকবে আমাদের গৌরব আর অহংকারের বাতিঘর হয়ে।

লেখক : মো. ফজলুল করিম মিরাজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। স্টুডেন্ট জার্নাল-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here