যারা বিশ্বাস করেন মুখের চেয়ে কলমের শক্তি বেশি এবং যাদের ভালোবাসা আছে দেশের প্রতি, সাধারণ মানুষের প্রতি তারাই লেখনি ও দায়িত্বশীলতার পেশা সাংবাদিকতার সাথে মিশে যান নিজের অজান্তেই। তেমনি একঝাঁক মেধাবী তরুনের সংগঠন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (বশেমুরবিপ্রবিসাস)।

জাতির জনকের জন্মভূমি গোপালগঞ্জ থেকে ২৮ জন তরুণ সাংবাদিক যাত্রা করে কোটি প্রাণের শহর ঢাকায়, প্রেস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর আমন্ত্রনে।

পদ্মার বিশালতা ও পদ্মাসেতুর উন্নয়ন প্রকল্প দেখতে দেখতে আমরা যখন পিআইবি ভবনের ফটকে গিয়ে পৌছলাম তখন রাত তার আঁধারের চাদরে ঢেকে ফেলেছে চারপাশ, এরই মধ্যে আমাদের অভ্যর্থনা জানাতে অপেক্ষা করছিলেন ডরমেটরির একজন কর্তব্যরত ব্যক্তি।

১৮ থেকে ২০ এপ্রিল, তিনদিনের এই প্রশিক্ষণে সংবাদের পরিচয় থেকে শুরু করে এর ধরণ, স্ট্রেইট জ্যাকেট রিপোর্ট এবং এর ইনভার্টেড পিরামিডিয় ধারণা, ফিচার, গণমাধ্যমে জেন্ডার বিভ্রাট ও অনুসন্ধানী রিপোর্টের তথ্য সংগ্রহে আরটিআই এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করেন স্ব স্ব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রশিক্ষকগন।

তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুল আলম চৌধুরী, চ্যানেল আই এর সিনিয়র বার্তা সম্পাদক মীর মাশরুর জামান, বাংলাভিশন এর সিনিয়র নিউজ এডিটর রুহুল আমীন রুশদ, পিআইবি’র প্রশিক্ষক পারভীন এস রাব্বী এবং ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মীর মো. নজরুল ইসলাম উল্লেখযোগ্য। তারা আমাদের প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন নির্ভুল ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে।

প্রশশিক্ষণ চলে সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটা, মাঝে চা ও দুপুরের খাবার বিরতি। এক বিকেলে সবাই মিলে বের হই রমনা পার্ক হয়ে রাজু ভাষ্কর্যের সামনের টিএসসির উদ্দেশ্যে, বশেমুরবিপ্রবিসাসের বর্তমান সভাপতি আবু জাহিদের নেতৃত্বে শুভেচ্ছা বিনিময় হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাথে। তাদের গৌরবময় অতীত ও কর্মপদ্ধতি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা।

পিআইবির আবাসিক সুব্যবস্থাপনা ও বশেমুরবিপ্রবিসাসের সদস্যদের আন্তরিকতা ও খুনসুটিতে প্রাণবন্ত ছিল সবাই, বশেমুরবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. রেজোয়ান হোসেন ও সাবেক সভাপতি নাসিমুল ইসলাম, নজরুল ইসলামকে পাশে পেয়ে তিনটা দিন যেন মুহূর্তেই কেটে গেলো, সুখের সময় যেমন শুরু হতে হতেই শেষ হয়ে যায়।

এবার ফেরার পালা, সবুজ ক্যাম্পাসে প্রিয় সংগঠনের টানে, অর্জিত জ্ঞানের প্রয়োগে দেশের একটি সম্ভাবনাময় বিশ্ববিদ্যালয়কে সারা বিশ্বের সামনে তুলে ধরার প্রত্যয় বুকে নিয়ে যখন গোপালগঞ্জের পথে, তখন একটি কথাই মনে পড়ছিলো বারবার “আমার কলম যেন কথা বলে লক্ষ প্রাণের হয়ে।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here