পার্চিং পদ্ধতিতে কীটনাশকমুক্ত ধানচাষে সফলতা

কীটনাশক ব্যবহার করলে খেতের ক্ষতিকারক পোকার সাথে সাথে উপকারী পোকাও মারা যায়। এতে জমির উপকারের চেয়ে ক্ষতির দিকটাই বেশি। তাই কীটনাশক ছাড়া শুধুমাত্র পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকার হাত থেকে ধান খেতকে রক্ষা করা যায়। পার্চিং পদ্ধতিতে ধানের আবাদে সাফল্য পাওয়ায় পাবনার ভাঙ্গুড়ার কৃষকরা দিন দিন এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা জমিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করেছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহারে যেমন ধান খেতের ক্ষতি হয় না তেমনি অতিরিক্ত খরচ থেকেও বাঁচা যায়।

জানা যায়, পার্চিং পদ্ধতি হলো ধানের জমিতে কীটনাশক ব্যবহার না করে বাঁশের কঞ্চি বা গাছের ডালপালা ধান খেতে পুঁতে পাখি বসানোর ব্যবস্থা করা। যাতে পাখি বসে ধান গাছের উপর থাকা ক্ষতিকারক মাজরা পোকার মথ দেখে পাখি তা খেয়ে ফেলে। এতে খেতের মধ্যে মাজরা পোকা বংশ বিস্তার করতে পারে না। ফলে ফসলের খেতটি ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে রেহাই পায় এবং উপকারী পোকা সহজেই বংশ বিস্তার করতে পারে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্র জানায়, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ৩শ’ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ হাজার মেট্রিক টন।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুস্থির কুমার সরকার জানান, চলতি মৌসুমে কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই উপজেলার অধিকাংশ ধান খেতে পার্চিং পদ্ধতিতে আবাদ করা হয়েছে। শতভাগ পার্চিং ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের পাছবেতুয়ান গ্রামের কৃষক রিয়াজুল ইসলাম জানান, পার্চিং পদ্ধতিতে তিনি ১১ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। গত ৪ বছর ধরে তিনি কীটনাশক ব্যবহার না করে এ পদ্ধতিতে বোরো ধানের আবাদ করে আসছেন। এতে তিনি সফলতা পেয়েছেন।

ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৃষক কলকতি গ্রামের কুরবান আলী জানান, ৫ বিঘা জমির মধ্যে তারা ৩ বিঘা জমিতে ডালপালা পুতে দিয়ে পার্চিং পদ্ধতিতে বোরো আবাদ করেছেন।

একই ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের কৃষক হযরত আলী সরদার জানান, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে গত ৭/ ৮ বছর ধরে তিনি কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই পার্চিং পদ্ধতিতে বোরো ধানের আবাদ করে আসছেন। এ বছরও তিনি কীটনাশক ব্যবহার না করে ৭ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here