পানির বাড়তি দাম নিতে ওয়াসার আর কোনো বাধা নেই

ওয়াসার পানির দাম ২৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে বিল আদায়ের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা আজ মঙ্গলবার স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের ভার্চুয়াল চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান। ১৬ সপ্তাহের জন্য এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্ধিত হারে পানির বিল আদায়ে বাধা থাকলো না। হাইকোর্ট গত ২২ জুন এক আদেশে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত হারে পানির বিল আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন।

হাইকোর্টের এই আদেশ স্থগিত চেয়ে ওইদিন বিকেলেই আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন করে ওয়াসা। ওয়াসার এ আবেদনের ওপর মঙ্গলবার শুনানি শেষে তা স্থগিত করে দেন আদালত। ওয়াসার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট (অ্যাটর্নি জেনারেল) মাহবুবে আলম। রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ।

সেবার মান না বাড়িয়ে ওয়াসার পানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে গত ১৫ জুন রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তানভীর আহমেদ। রিট আবেদনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও আইন সচিব, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) ছয়জনকে বিবাদী করা হয়। পানির দাম বাড়িয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আদেশ জারি করা হয়। যা গত ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসা আবাসিক গ্রাহকদের পানির বিল ২৫ শতাংশ এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকের বিল বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী আবাসিকের ক্ষেত্রে প্রতি হাজার লিটার পানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ টাকা ৪৬ পয়সা, যা আগে ছিল ১১ টাকা ৫৭ পয়সা। আর বাণিজ্যিকে প্রতি হাজার লিটার ৩৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গতবছর সেপ্টেম্বরে পানির মূল্য ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। আইনের ২২ (২) ধারায় বলা আছে, প্রতিবছর একবার অনধিক ৫ শতাংশ হারে পানির দাম বাড়ানো যাবে। আইন অনুযায়ী পানির দাম নির্ধারণের ৩০ দিন আগে তা জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু পানির দাম বাড়ানোর বিজ্ঞপ্তি ওয়াসার নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়, যেখানে কোনো তারিখ নেই। তাই এভাবে দফায় দফায় পানির দাম বাড়ানো অযৌক্তিক ও বেআইনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here